শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:১১

করোনায় পথ দেখাচ্ছে কৃষিজাত পণ্য

রেমিট্যান্সের পর রপ্তানি আয়েও চমক

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনায় পথ দেখাচ্ছে কৃষিজাত পণ্য

চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সামষ্টিক অর্থনীতির যে দুটি খাত নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখিয়েছিলেন, তার একটি রেমিট্যান্স এবং অন্যটি রপ্তানি আয়। এখন নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে দেখা যাচ্ছে, রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আয়ের পর রপ্তানি আয়ও চমক দেখিয়েছে। আর এই আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশের কৃষিজাত অপ্রচলিত পণ্য। করোনা সংকটেও কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে ৩ হাজার ৯১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে, যা গত দুই অর্থবছরের যে কোনো একক মাসের রপ্তানি আয়ের তুলনায় সর্বোচ্চ আয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোনো এক মাসে এত বেশি আয় আর দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৮ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় এসেছিল। এরপর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে সেটিকে ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৮৮৭ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় আসে। গত দুই অর্থবছরের মধ্যে এটিই ছিল কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ আয়। এবার সেটিও ছাড়িয়ে গেছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও এ এইচ এম আহসান বলেন, আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে প্রায় ০.৫৯ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় এসেছে। আর গত জুনের তুলনায় এটি প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। করোনা সংকটেও অর্থবছরের শুরুতেই রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফন আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন তিনি। পথ দেখাচ্ছে কৃষিপণ্য : দেশের রপ্তানি আয় মূলত তৈরি পোশাক নির্ভর। গত মার্চে ইউরোপ-আমেরিকায় কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বড় আঘাত আসে এই পোশাক খাতেই। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আদেশ বাতিল ও স্থগিত করে দেয় ক্রেতারা। তখন থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য বাড়াতে অপ্রচলিত কৃষি পণ্য, হালকা প্রকৌশলী ও ওষুধজাত পণ্যে গুরুত্ব দিতে থাকে। চলতি অর্থবছরের জন্য নগদ সহায়তার যে সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেখানেও এসব পণ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর সুফলও দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয়ে। জুলাইয়ে যে ২১টি পণ্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে তার মধ্যে ৮টিই কৃষিপণ্য। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩৮ শতাংশ, কাঁচা পাট ৫৮ শতাংশ, কৃষিপণ্য ৩১ শতাংশ, গুঁড়া মসলা ৪১ শতাংশ, চা ৭৯ শতাংশ এবং শুকনা খাবার রপ্তানিতে প্রায় ১০৯ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি পণ্য ছাড়াও নিট পোশাক, জুট ইয়ার্ন অ্যান্ড টোয়াইন, হোম টেক্সটাইল, চামগা ব্যতীত জুতা, কেমিক্যাল পণ্য, প্রকৌশলী পণ্য, প্রকৌশল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রিক পণ্য, কার্পেট, ফার্নিচার, ওষুধ, ক্র্যাবস রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে জুলাইয়ে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, করোনা সংকটে দেশের রপ্তানি আয় নিয়ে যে ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, জুলাইয়ের আয় আমাদের সে শঙ্কা অনেকটা দূর করে দিয়েছে। করোনা পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও কৃষিজাত পণ্যের মতো অপ্রচলিত পণ্য খুব ভালো করছে। রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য বাড়াতে এসব পণ্যের বিপরীতে নীতিনির্ধারণী সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আমাদের সুপারিশ রয়েছে। অর্থাৎ অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা করোনা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ইপিবির কর্মকর্তারা বলছেন, রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান গত কয়েক বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট কোটায় আটকে গেছে। বিশেষ করে কটন বেইজড কম মূল্যের পোশাকের নির্দিষ্ট বাজারের বাইরে যেতে পারছে না দেশের গার্মেন্ট শিল্প। ফলে উচ্চমূল্যের ম্যান-মেইড ফেব্রিকসে না যাওয়া পর্যন্ত এই খাতে খুব একটা রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দেশের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্য ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোর তৈরি আটা, সুজি, বিভিন্ন ধরনের শুকনা খাবার, হোম ট্রয়লেট্রিজ, গুঁড়া মসলার চাহিদা বাড়ছে পশ্চিমা বিশ্বে। এমন কি পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এখন খাদ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের দিকে ঝুঁকছে। বিষয়টি স্বীকার করে বাণিজ্য সচিব বলেন, করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর সিঙ্গাপুর ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো খাদ্যজাত কৃষিপণ্য আমদানির আগ্রহ দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর