শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪২

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ থেকে চিরতরে দারিদ্র্য দূর : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিদিন ডেস্ক

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ থেকে চিরতরে দারিদ্র্য দূর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবানদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশ থেকে চিরতরে দারিদ্র্য দূর করতে পারে।

গতকাল সকালে ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে সরকারের সচিবগণের গৃহ উপহার’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। খবর বাসস।

মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার সরকারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৮০ জন সচিব নিজ নিজ এলাকায় ১৬০টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু নিজে ভালো থাকব, সুন্দর ও আরাম-আয়েশে থাকব আর আমার দেশের মানুষ, এলাকার মানুষ কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা না, এটা তো হয় না। কাজেই সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশে আর কোনো দরিদ্র থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ খুব সাহসী। তাঁদের নিয়ে যুদ্ধ করেই জাতির পিতা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। কাজেই বিজয়ী জাতি হিসেবেই বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে চলব।’ সে সময় বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীর গর্বিত আচরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তারা খুব গর্ব করত, তাদের আবার কে হারাবে, কিন্তু বাঙালিরা তাদের হারিয়ে যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পেশাজীবী বলেন বা ব্যবসায়ী বলেন বা যে যেখানেই আছেন, প্রত্যেকের কাছেই আমার অনুরোধ থাকবে- যে যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং যে গ্রামে জন্মেছেন তার উন্নয়নে যেন সহযোগিতা করেন।’ করোনার মধ্যে তাঁর সরকারের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যাঁরা বিত্তশালী তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় প্রতেকেই দুস্থদের দিকে যেন ফিরে তাকান। গৃহহীনকে ঘর করে দেন বা তাদের কিছু সাহায্যের ব্যবস্থা করে দেন।’ তিনি সচিবদের এই গৃহহীন প্রকল্প গ্রহণকে একটি মহৎ উদ্যোগ আখ্যায়িত করে এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজকে নিজ নিজ এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে সচিবরাও সরকারি এ উদ্যোগে শরিক হয়েছেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় দুটি করে ঘর করে দিয়েছেন। কাজেই আজকে এ ঘর দেওয়ার পর দুঃখী মানুষের মনে যে আনন্দটা আসবে, আমি মনে করি এটাই সব থেকে বড় পাওয়া।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বাংলার নিপীড়িত, বঞ্চিত জনগণের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা ও দারিদ্র্যের কশাঘাত দেখে জাতির পিতার প্রাণ কেঁদে উঠত। যে কারণে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এ দেশের মানুষের জন্য কিছু একটা করে যাবেন। আর সেটা করতে গেলে এ দেশ স্বাধীন করতে এবং এ দেশের মানুষকে একটা সুন্দর জীবন দিতে হবে।’ জাতির পিতার নীতি ও মহান আদর্শের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি বা পিছপা হননি, সব সময় ন্যায্য কথা বলেছেন, ন্যায্যভাবে চলেছেন এবং এ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা এ প্রসঙ্গে পিতা হিসেবে সব সময় দেশের কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁকে কাছে না পাওয়া এবং দেশ স্বাধীনের পর ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেওয়া জাতির পিতার বিখ্যাত সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘জাতির পিতা বাংলার মানুষকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসতেন (আই লাভ মাই পিপল)। এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবেরই ভালোবাসা পেয়েছে।’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে গৃহহীনকে ঘরবাড়ি করে দেওয়া এবং ভূমিহীনকে খাসজমি প্রদানে জাতির পিতার ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) নিজে নোয়াখালী যান (এখন লক্ষ্মীপুর তখন সেটা মহকুমা ছিল) এবং সেখানেই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ভিত্তি রচনা করেন। তাঁর কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ওপরই এ দায়িত্ব ছিল এবং তিনি সেখানে ঘর তৈরি করে দিয়ে আসেন।’

বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলাও জাতির পিতার চিন্তার ফসল উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে তিনি ১০ শয্যার হাসপাতাল করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁর চিন্তা ছিল চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সে সময়ই প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেন এবং সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করে জেলা গভর্নর নিযুক্ত করে দেন।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যাকান্ডের পর আবারও দেশের দুঃখী মানুষ দুঃখীই থেকে গেছে। তাদের প্রতি কেউ ফিরেও তাকায়নি। কেননা পরবর্তী সরকারগুলো ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু এবং নিজেদের আগের গোছাবার জন্য ব্যবহার করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বারবার অবৈধভাবে সরকারে আসা গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশের একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি হাত মিলিয়ে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করলেও দেশের আপামর জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতির পিতার ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের অনুকরণে তাঁর সরকারের ‘আশ্রয়ণ’, ‘ঘরে ফেরা’ এবং ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার বস্তিবাসী যদি নিজ গ্রামে ফিরে যায় তাহলে তাদের সরকারের টাকায় ঘর করে দেওয়া, খাবারের ব্যবস্থা এবং টাকাপয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ প্রত্যেকে যেন নিজে কিছু করে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়।’ তিনি বলেন, ‘যদিও করোনাভাইরাসের কারণে অনেক কাজ থমকে গেছে। কিন্তু আমরা বসে নেই। এ করোনাভাইরাসের মধ্যেও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছি।’ তিনি তাঁর সরকার নির্বাচনে ভোট প্রদান করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। তার পর থেকে জনগণের সেবা করে আমরা অন্তত এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে- সে সম্মানটা আমরা অর্জন করেছি।


আপনার মন্তব্য