শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২১

রিমান্ডে গোল্ড মনির

জেরায় রাঘববোয়ালদের নাম

বিআরটিএ এনবিআর সিআইডিকে র‌্যাবের চিঠি, ২৫ অ্যাকাউন্টে হাজার কোটি টাকা, পূর্বাচল বাড্ডা নিকুঞ্জ উত্তরা কেরানীগঞ্জে ২০২টি প্লট, গাড়ি ব্যবসার ক্রেতা প্রভাবশালীরা, তিন মামলা ডিবিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জেরায় রাঘববোয়ালদের নাম

জেরার মুখে গোল্ড মনিরের জবানিতে বেরিয়ে আসছে রাঘববোয়ালদের নাম। যাদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য দিয়ে বলেছে, বিভিন্ন ব্যাংকে অন্তত ২৫টি অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে। যেখানে প্রায় হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত রাখার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত রাজউকের পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে গোল্ড মনির বাগিয়েছেন ২০২টি প্লট। হাজার কোটি টাকার মালিক মনির হোসেন ওরফে গোল্ড মনিরের অগাধ সম্পদসহ নানা অপকর্মের অনুসন্ধানের জন্য তিন সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে র‌্যাব। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা র‌্যাব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘গোল্ড মনিরের অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট তিনটি দফতরকে চিঠি দিয়েছি আমরা। প্রয়োজনে ওইসব দফতরকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব।’

মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে বাড্ডা থানার তিনটি মামলার তদন্তের ভার ডিবিতে দেওয়া হয়েছে। ওই তিন মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছে গোল্ডেন মনির। ডিবির শুলশান বিভাগের ডিসি মো. মশিউর রহমান জানান, তিনটি মামলার তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হয়েছে। আসামি গোল্ড মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড্ডা থানা হেফাজত থেকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গোল্ড মনিরের ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করছে পুলিশ। এর বাইরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে চোরাচালানির মাধ্যমে কী পরিমাণ স্বর্ণ দেশে এনেছিল, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকে গোল্ড মনিরের ৯৩০ কোটি টাকা গচ্ছিত থাকলেও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আয়কর নথিতে মাত্র ২৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ বিষয়েও অনুসন্ধানের জন্যও এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য বিআরটিএকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গোল্ড মনিরের অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল সম্পদের বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, গোল্ড মনিরের বিরুদ্দে তদন্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। সূত্র জানায়, স্বর্ণের চোরাকারবারি মনির হোসেন ওরফে গোল্ড মনিরের সঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ ছাড়া একজন প্রতিমন্ত্রী ও রাজউকের একজন সাবেক চেয়ারম্যানের নামও উঠে এসেছে রাঘববোয়ালদের তালিকায়। সূত্র জানায়, রাজউকেই গোল্ড মনির নিজের একটি কার্যালয়ও করেছিলেন। অথচ এ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জমিও অবৈধভাবে কব্জা করতে দ্বিধা করেননি। রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উত্তরায় বরাদ্দ প্রায় দেড় একর জমি নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন মনির। আর তার এ অপকর্মের দোসর খোদ রাজউকেরই কর্মচারী বহুমুখী সমিতির নেতারা। তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই এ জমি ক্রয়ের আমমোক্তারনামা করেন মনির হোসেন। সূত্রমতে, কয়েক বছর আগে উত্তরা আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর সেক্টরে ৯০ দশমিক ২৫ কাঠা জমি বরাদ্দ পায় রাজউক কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি। এ জমির উন্নয়নে স্বদেশ প্রপার্টিজ হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। পরে গত বছরের ১৯ মার্চ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের এ জমিটি কিনে নেন মনির। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গোল্ড মনিরের মেরুল বাড্ডার বিলাসবহুল ষষ্ঠতলা বাড়িতে সাড়ে ১২ ঘণ্টার অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযান শেষে গোল্ড মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ষষ্ঠতলা ওই বাড়িতে নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, ৯ লাখ টাকা মূল্যমানের ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, ৪ লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল এবং কয়েক রাউন্ড গুলি জব্দ করে র‌্যাব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর