শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪০

খরচ কমিয়েও অর্থ সংকট মিটছে না সরকারের

পরিস্থিতি সামলাতে সব ধরনের যানবাহন কেনা স্থগিত

মানিক মুনতাসির

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকারের আয় কমলেও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতিতে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল স্বাস্থ্যবিভাগ। সেখানে ৭২৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ সারা বছর ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথা ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় সব ধরনের যানবাহন কেনা স্থগিত করেছে অর্থবিভাগ। গত ৩ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসেও অনুরূপ একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে এটা তো নতুন নয়। তবে এবার নিশ্চয়ই অনেক বেশি পরিমাণে কমেছে। এমন একটা ধাক্কা আসবে তা তো আগেই বোঝা গেছে। কেননা কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সারাবিশ্বেই ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা বিরাজ করছে। এই সংকট সামনের দিনগুলোতে তা আরও বাড়বে। ফলে আমাদের এখানেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে করে সরকারেরও আয় কমেছে। সরকার যে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে তার আগে সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তাহলে সরকারের অনেক অর্থের সাশ্রয় হবে। যা এই সংকটকালে কাজে লাগবে। এতে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও সহজ হবে। অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ফলে সরকারের ভিতরে অর্থসংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। এদিকে রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগে আনতে নানা রকমের পরিকল্পনা করা হলেও সেটা সময়সাপেক্ষ। ফলে সভরেন বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারছে না সরকার। খরচ কমিয়েও অর্থসংকট মেটানো যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থছাড় স্থগিত করেছিল সরকার। কিন্তু সেই ব্যয় সংকোচন নীতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে আবারও এসব প্রকল্পে অর্থছাড় প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থবিভাগ। ফলে ব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। এতে সরকারি আয়-ব্যয়ে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য অর্থবিভাগ থেকে গত ৩১ আগস্ট বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের জন্য একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আহরণে থাকে ধীরগতি। এমনকি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে। এতে বাজেটের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে বছরের শেষে এসে সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার নিতে হয়। যা বাজেটের শৃঙ্খলা নষ্ট করে। এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে করোনা মহামারী শুরু হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যস্ত এই অর্থনীতিকে টেনে তুলতে সরকারে কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে এ প্যাকেজের অর্থ প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এগোলেও এসএমই ও এমএসএমই ও সিএসএমই খাতগুলো এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর