শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪১

পলিসি টানতে কমিশন বাণিজ্য

৪৬ বীমা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখবে ইডরা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

পলিসি টানতে কমিশন বাণিজ্য শুরু করেছে নন-লাইফ খাতের বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলো। বিধি অনুযায়ী নন লাইফ বীমা কোম্পানি লাইসেন্সধারী এজেন্টকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ কোম্পানি এই বিধি অমান্য করে এজেন্টদের অতিরিক্ত কমিশন দিচ্ছে। বীমা খাতের এই বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ৪৬টি বীমা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইডরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি দিয়েছে ইডরা। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। অভিযুক্ত বীমা কোম্পানির লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখার বিষয়ে ইডরাকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির নামে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে যেসব ব্যাংক হিসাব রয়েছে, তার নম্বর আইডিআরএ পরিবীক্ষণ করতে চায়। এ বিষয়ে যাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে করা বীমা কোম্পানিগুলোর লেনেদেনের তথ্য দেয়, সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে ইডরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকার্স বুক অ্যাভিডেন্স আইন অনুযায়ী আদালত অথবা কোনো বিচারকের নির্দেশ ছাড়া কোনো ব্যাংক তার গ্রাহকের হিসাব বা লেনদেনের তথ্য কাউকে দিতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা জানিয়েছেন, ইডরা যেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সে ক্ষেত্রে তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। সূত্রমতে, এর আগে ২০১২ সালে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন             (বিআইএ)-এর উদ্যোগে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেওয়া বন্ধ করে বীমা কোম্পানিগুলো। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল   থেকে আবারও শুরু হয় অতিরিক্ত কমিশন। এরপর থেকে অবৈধ কমিশন দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। কোনো কোনো কোম্পানি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেয় বলে ইডরার কাছে অভিযোগ রয়েছে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অধিকাংশ কোম্পানির এফডিআর কমে যায়। দুর্বল হয়ে পড়ে কোম্পানির আর্থিক ভিত।

জানা গেছে, নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন হার নির্ধারণ করে ২০১২ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইডরা। গত বছরের মার্চেও এক চিঠিতে ১৫ শতাংশ কমিশন দেওয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ  দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন ব্যয়ের সীমা নিয়ে ২০১২ সালের এপ্রিলে কর্তৃপক্ষের জারিকৃত নির্দেশনা যথাযথ প্রতিপালন ও অনুসরণ করা হচ্ছে না।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমা পলিসি ইস্যু করার ক্ষেত্রে কোনো বীমাকারী পরিশোধযোগ্য প্রিমিয়ামের ১৫ শতাংশের (১৫%) অধিক কমিশন অথবা অন্য কোনো প্রকার পারিশ্রমিক কোনো বীমা এজেন্টকে প্রদান অথবা প্রদানের চুক্তি এবং কোনো বীমা এজেন্ট পরিশোধযোগ্য প্রিমিয়ামের ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন অথবা অন্য কোনো প্রকার পারিশ্রমিক প্রদান করতে পারবে না।

এ বিষয়ে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে যদি ইডরা কোনো বীমা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখতে চায়, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। শৃঙ্খলার স্বার্থে তারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।

ইডরার সাবেক সদস্য গোকুলচাঁদ দাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করতে ২০১৮ সালে একটি আদেশ জারি করে ইডরা। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, প্রিমিয়াম বাবদ কোম্পানিগুলো যে অর্থ নেবে সেটি একটি ব্যাংক হিসাবে জমা করবে। যাতে ওই হিসাব তলব করলেই বোঝা যায় পলিসির বিপরীতে কী পরিমাণ কমিশন দেওয়া হয়েছে এজেন্টদের। ফলে ওই আদেশ অনুযায়ী শৃঙ্খলার স্বার্থে বীমা কোম্পানির লেনদেন বা ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইডরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর