শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৫

ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন বগুড়ার সেই তুফান সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন বগুড়ার সেই তুফান সরকার

বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকারকে জামিন দিয়েছে আদালত।

গতকাল বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর বিচারক এ কে এম ফজলুল হক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পৌনে চার বছর পর আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকার জামিন পেলেন। তুফান সরকার বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ও জেলা শহরের চকসূত্রাপুরের বাসিন্দা।  আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুল মোন্নাফ, নুরুস সালাম ও রবিউল ইসলাম। আইনজীবী আবদুল মোন্নাফ জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চুল কেটে দেওয়া ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের অপর মামলায় তুফান সরকার জামিনে রয়েছেন কি না, জানতে চাইলে আইনজীবী আবদুল মোন্নাফ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নরেশ মুখার্জি বলেন, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তুফান সরকারের জামিনের বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষকে শুনে তাকে জামিন দেন।

নরেশ মুখার্জি বলেন, মামলার প্রধান সাক্ষী বাদী নিজেই। এ ছাড়া ভিকটিম মেয়েটিও মামলার অন্যতম সাক্ষী। গতকাল প্রধান আসামির জামিন শুনানির আগে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, তুফান সরকার মামলার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে। সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন কি না তা জানা নেই। তুফান সরকার ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা আগে থেকেই জামিনে রয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকারসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর বিচারক এ কে এম ফজলুল হক। ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আসামিপক্ষ আবেদন করলে ২৭ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ করে আদালত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ বহাল রাখে। তুফান সরকার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তুফানের স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা, আশার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান ওরফে রুমকি, তুফানের শাশুড়ি লাভলী রহমান ওরফে রুমি, সহযোগী আতিকুর রহমান ওরফে আতিক, মুন্না, আলী আযম, মেহেদী হাসান ওরফে রুপম, সামিউল হক ওরফে শিমুল ও এমারত আলম খান ওরফে জিতু। তুফান ছাড়া সবাই আগে থেকে দুই মামলাতেই জামিনে রয়েছেন। ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ আলোচিত এ ধর্ষণ মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মা-মেয়েকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় করা আরেকটি মামলায় গত বছর ৭ নভেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালত ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

বগুড়ার জেল সুপার মনির আহম্মেদ বলেন, ‘তুফান সরকারের জামিন হয়েছে শুনেছি। কিন্তু আরও মামলা থাকায় আপাতত হাজতে রয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এক কিশোরীকে ভালো কলেজে ভর্তি ও বিয়ের প্রলোভনে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন তুফান সরকার। পরে এ ঘটনায় বিচার চাইতে গেলে বিচারের নামে মেয়ে ও তার মাকে কৌশলে নির্যাতনের একপর্যায়ে নাপিত ডেকে এনে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণ এবং মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর