শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৬

৫০ লাখ টিকার প্রথম চালান ঢাকায়

আজ নিবন্ধন শুরু, কাল একজন নার্সকে টিকা দিয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ ঢাকায় এসেছে। গতকাল সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট টিকা নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ভ্যানের সাহায্যে টিকা বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউজে রাখা হয়েছে। আজ থেকে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে শুরু হবে টিকার নিবন্ধন কার্যক্রম। আগামীকাল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে টিকা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে টিকা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আরও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৪ জন প্রতিনিধিকে টিকা দেওয়া হবে। পরের দিন রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে ৪০০-৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাইয়ে তাদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। গতকাল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসার তথ্য জানিয়েছিলেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে টিকা বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউজে নেওয়া হবে। টিকা সংরক্ষণের জন্য নতুন করে বিশেষভাবে এ ওয়্যারহাউস তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি টিকার নমুনা আমরা ওষুধ প্রশাসনের ল্যাবরেটরিতে পাঠাব টেস্ট করতে। তারা ছাড়পত্র দিলে প্রতিটি জেলায় আমরা পৌঁছে দেব। ধারণা করছি, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে আমরা এ টিকা দেশের সব জেলায় পৌঁছে দিতে পারব। তিনি বলেন, এখন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা বেক্সিমকোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আসবে। এ টিকা পরিবহনের জন্য আমরা বিশেষ কার্ভার্ড ভ্যান কিনেছি। যা আমাদের কাছে আগে ছিল না। আজ নয়টি ভ্যান টিকা বহন করছে। মার্চে আরও ভ্যান আসবে। মুম্বাই থেকে এ টিকা ঢাকায় এসেছে। সরকারকে দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি টিকা যাচাই করে দেখা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি, ক্ষতি, ঘাটতিসহ কোনোরকমের সমস্যা থাকলে সেগুলো বেক্সিমকো ফার্মা রাখবে। সেগুলোর দায় বেক্সিমকোর। সরকারকে আমরা নিখুঁত টিকা দেব। আজ থেকে টিকা গ্রহণকারীদের নিবন্ধন শুরু হবে। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন। এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ডিজিটাল ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’য় অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টিকা দেওয়া হবে না। এ ডাটা সংরক্ষণ করে, বিশ্লেষণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী আমরা কেন্দ্রে টিকা পাঠাব। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র পরিবর্তন করে টিকার সুযোগ দিলে অনেক টিকা নষ্ট হবে।’ টিকা পেতে আগ্রহীরা সুরক্ষা প্ল্যাটফরমের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে গিয়ে অথবা মোবাইলে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে পারবেন। যাদের ইন্টারনেট সুবিধা বা অ্যাপ ব্যবহারের মতো ডিভাইস নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগ্রহীদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ফ্রি নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিবন্ধনের পর সেখান থেকে জানা যাবে, কবে কখন টিকা নিতে হবে। তবে ১৮ বছরের বেশি বয়সী মানুষ এ টিকা নিতে পারবেন এবং নিবন্ধন করতে পারবেন। কারণ অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। পরিচয় যাচাইয়ে এ অ্যাপে ১৮টি শ্রেণি করা হয়েছে, যার একটি নির্বাচন করার পর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিবন্ধন শুরু করতে হবে। টিকা দিতে ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় করোনাভাইরাস নির্মূলে টিকা দিতে ৮৪ জন ডাক্তার ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ডিএসসিসি। নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ জন ডাক্তার ও ৫৪ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর