শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৭

রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারে মামলা

আলজাজিরার সেই সামিসহ আটজনকে অব্যাহতি দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় সম্প্রতি আলজাজিরার বিতর্কিত তথ্যচিত্রের অন্যতম চরিত্র সায়ের জুলকারনাইন সামিসহ আটজনকে অব্যাহতি দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহসিন সরদার আট আসামির অব্যাহতি চেয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অব্যাহতির সুপারিশ করা অন্যতম আসামি মিনহাজ মান্নান ইমনের আইনজীবী মো. শাহরিয়ার কবির বিপ্লব সাংবাদিকদের জানান, মিনহাজ মান্নান ইমনকে ঢাকার সিএমএম আদালত সোমবার জামিন দেয়। এর আগে গত বছরের ৬ জুন গ্রেফতার করা হয় ঢাকার শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের কর্ণধার মিনহাজ মান্নান ইমনকে। পরে ঘটনা তদন্ত করে আট আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। নিয়মানুযায়ী মামলাটি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। বুধবার অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। আদালতসূত্র জানান, এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির জন্য দুই আসামি আহম্মেদ কবির কিশোর ও মোস্তাক আহম্মেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আসসামছ জগলুল হোসেন। পুলিশ যে আট আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়েছে তারা হলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক ও বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্ণধার মিনহাজ মান্নান ইমন, সুইডেনে অবস্থানরত সাংবাদিক তাসনিম খলিল, আলজাজিরার তথ্যচিত্রের অন্যতম চরিত্র সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি, আসিফ ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ, সাহেদ আলম ও জার্মানিতে অবস্থানরত ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন। অভিযোগপত্রে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ‘আসামিরা পলাতক এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় আপাতত তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হলো।’ এর আগে ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের অভিযোগে র‌্যাব-৩-এর মো. আবুবকর সিদ্দিক বাদী হয়ে গত বছরের ৬ মে রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাসূত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি এবং আপত্তিকর প্রচারণা ও করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের অন্যতম সায়ের জুলকারনাইন সামি। ‘উই আর বাংলাদেশি’ পেজ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনুসন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান গোয়েন্দারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল ও সামিসহ ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার লক্ষ্যেই কল্পিত ফিল্মটি নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণা ও মিথ্যাচারে সিদ্ধহস্ত বিতর্কিতদের দিয়ে আলজাজিরার এ ফিল্ম তৈরির উদ্দেশ্য কারও বুঝতে আর বাকি নেই। তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর