শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৫৪

সারা দেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

দোকান খোলার দাবিতে সড়ক অবরোধ, ফরিদপুরে সংঘর্ষ ভাঙচুর আগুন একজনের মৃত্যু, ঢাকায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
দোকান খোলা রাখার দাবিতে গতকাল কুমিল্লায় বিক্ষোভ (বামে)। সংঘর্ষ চলাকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ অফিসে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

করোনার বিস্তার ঠেকাতে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে সারা দেশে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিধিনিষেধ কার্যকর করা নিয়ে সোমবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংষর্ঘের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয় উপজেলা পরিষদে। এ সময় জুবায়ের হাসান (২৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে রাজধানীর নিউমার্কেট এবং মিরপুর এলাকায় গতকালও বিক্ষোভ করেছেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। টানা তৃতীয় দিনের মতো গতকাল সকাল থেকে সড়কে অবস্থান নেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। একই দাবিতে মিরপুর ১ নম্বর মোড়েও বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা মিরপুর ১ ও এর আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা। এ সময় তাদের ‘লকডাউনের নামে তামাশা চাই না, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা চাই, আগে খাবারের নিশ্চয়তা দিন, পরে লকডাউন দিন, করোনা থেকে বাঁচতে গিয়ে, না খেয়ে মরতে চাই না, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাঁচাবাজার বইমেলা ব্যাংকের সঙ্গে শপিং মলগুলো খুলে দিন’- ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। সেখানে নারী উদ্যোক্তাদেরও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবি জানান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এসব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গ্লোব শপিং কমপ্লেক্সের মোকাররম নামে এক ব্যবসায়ী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সরকার ভাবুক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না টিকলে দেশও টিকবে না। আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় মার্কেট খোলা রাখতে চাই। রমজানে দোকান খোলা না থাকলে কী হবে, জানি না। গত বছরের ক্ষতিই পুষিয়ে উঠতে পারিনি।

চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, থ্রি পিস এবং অন্যান্য জামা ১০ থেকে ১৫ রোজার পর আর বিক্রি হয় না। কারণ টেইলরের কাজ থাকে পরে। টেইলর যদি অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন তাদের কাপড়ও কেউ কিনবে না। তারা যে বিনিয়োগ করেছেন, সেই টাকা কাপড় প্রস্তুতকারী, ব্যাংকের ঋণ, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, পারিবারিক খরচ এগুলোর পেছনে খরচ করা হয়। সব মিলিয়ে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত।

এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বর চত্বরে জড়ো হতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তারা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সনি সিনেমা হলের সামনের মোড়ে হয়ে আবার ১ নম্বর মোড়ে ক্যাপিটাল টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে জড়ো হন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী সড়কে থাকা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। তবে কয়েকজনের বাধায় তারা গাড়ি ভাঙচুর করতে পারেননি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু সময়ের জন্য হলেও দোকান খুলতে চান তারা। কারণ গত বছর রমজানে লকডাউনের কারণে ব্যবসা মন্দা গিয়েছিল। সামনে ঈদ। এবারও দোকানপাট বন্ধ রাখলে তারা বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। ফরিদপুরে সংঘর্ষ, আগুন, নিহত একজন : ফরিদপুরের সালথায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার সময় দোকান খোলা নিয়ে সহকারী ভূমি কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) সঙ্গে ব্যবসায়ীর বাদানুবাদ হয়। সেই সূত্র ধরে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। বিক্ষুব্ধরা নির্বিচারে ভাঙচুর করে সালথা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কক্ষ। আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেয় পরিষদের কমপক্ষে তিনটি কক্ষ। আগুনে পুড়ে গেছে ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের দুটি জিপ গাড়ি। এ ছাড়া উপজেলা চত্বরে থাকা ৫টি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা উপজেলা চত্বরে অবস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনেও হামলা করে, ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি উপজেলা চত্বরের পাশে থানায়ও হামলা করে। এ ছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস, উপজেলা ভূমি অফিসেও ব্যাপক ভাঙচুর করে। উপজেলা চত্বরে অবস্থিত জেলা পরিষদের একটি অডিটরিয়ামেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার মানুষ। এ সংঘর্ষে পুলিশের ৭ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এদের মধ্যে জুবায়ের হাসান (২৭) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়। তার বাড়ি উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টহলে রয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়। এতে পরিষদের বেশকিছু দফতর পুড়ে গেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে আরও কয়েকটি কক্ষ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অনেক মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে গেছে। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, ফুকরা বাজারে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে এসআই মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে সোমবার রাতের হামলার পর সালথা উপজেলা পরিষদের আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়েছে। ফুকরা বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাজারের প্রতিটি দোকান তালাবদ্ধ রয়েছে।

সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ : কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরায় দোকান খোলা রাখা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঠিকমতো পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী শ্রমিকরা। বরিশাল : বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০ জন ব্যক্তি ও ৯ প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় হয়। এদিকে বিধিনিষেধের মধ্যে দোকান খোলা রাখার দাবিতে গতকাল নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। চকবাজার থেকে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে দোকান খোলা রাখার দাবি জানান। কুমিল্লায় বিক্ষোভ : কুমিল্লায় কান্দিরপাড়-চকবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়াতে মার্চ মাসের শুরুতে সরকার তাদের সতর্ক করতে পারত। কিন্তু কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই সরকার আকস্মিক সিদ্ধান্ত দেওয়াতে পথে বসতে হচ্ছে তাদের। সামনে পয়লা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর। এ সময় সীমিত পরিসরে ব্যবসা চালু রাখার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। বগুড়ায় মিছিল-সমাবেশ : স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে বগুড়ায় বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সাড়ে ১১টায় বগুড়া শহরের খান মার্কেট, নদীবাংলা মার্কেট, মেরিনা মার্কেট, গওহর প্লাজা, ইউনুস প্লাজা, আলিম ম্যানশন, ইসলাম মার্কেটের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা রাখার দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বটতলায় সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তারা। সমাবেশ শেষে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ : টাঙ্গাইলে মার্কেট ও শপিং মল খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সকালে শহরের সমবায় সুপার মার্কেটের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ঈদ উপলক্ষে পোশাক সংগ্রহ করেছি। লকডাউনের কারণে দোকান খোলা রাখতে না পারায়, আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। দোকান খোলা রাখতে সরকার ঘোষিত যে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ঘোষণাও দেন তারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ :  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল মোড় এলাকায় মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় হাজী আসহান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় বিভিন্ন মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেন।

সিলেটে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ : সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটের সামনে থেকে ‘সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ’র ব্যানারে মিছিল বের করেন ব্যবসায়ীরা। মিছিল নিয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে মানববন্ধন করেন তারা। প্রায় আধা ঘণ্টা মানববন্ধন চলে। এরপর ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে জিন্দাবাজার পয়েন্টে সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। করোনার কারণে লকডাউন থাকায় গেল বছরও ঈদে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হন। আবার এখন লকডাউন দিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

ঝিনাইদহে বিক্ষোভ : বিধিনিষেধের প্রতিবাদ ও দোকান খোলা রাখার দাবিতে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যবসায়ীরা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় শৈলকুপা শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ : পটুয়াখালীতে বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে শহরের ব্যবসায়ীরা। ‘লকডাউন মানি না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানদারি করব’ স্লোগান দিয়ে গতকাল সকালে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ ও মিছিল করে। শহরের পুরান বাজার এলাকা থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ করেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলে ব্যবসা পরিচালনা করার দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীতে বিধিনিষেধ মানছেন না ব্যবসায়ীরা : করোনার বিধিনিষেধ না মেনেই দোকান খুলেছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা গতকাল সকাল থেকে সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেটের দোকানগুলো খুলেছেন। তবে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। আরডিএ মার্কেটের ভিতর কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসের দোকানগুলো ছিল খোলা। ব্যবসায়ীরা দোকানগুলো খোলা রাখলেও নেই ক্রেতা। দোকান খুলে অনেকটাই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি- ক্রেতারা জানে না দোকান খোলা আছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে। এদিকে বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে রাজশাহীতে মাঠে ছিল প্রশাসন। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে চলেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিনা প্রয়োজন ও মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হওয়া লোকজনকে দেওয়া হয়েছে আর্থিক দন্ড।

এই বিভাগের আরও খবর