শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১১

ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি দখল করে ট্রাক স্ট্যান্ড, নীরব পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি দখল করে ট্রাক স্ট্যান্ড, নীরব পুলিশ
ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ট্রাকস্ট্যান্ড -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

বাংলাদেশ ট্রাকমালিক সমিতি শ্যামপুর শাখার নামে অবৈধভাবে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ এপ্রিল বেলা ১১টায় রাজধানীর কদমতলীতে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির দ্বিতীয় গেটের সিলগালা ভেঙে স্থানীয় ট্রাকমালিক সমিতি অসংখ্য ট্রাক ঢুকিয়ে কারখানার জায়গা জবরদখল করে নেয়। ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে তারা ট্রাকমালিক সমিতি শ্যামপুর শাখার নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। জবরদখলের পর সমিতির শ্যামপুর শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সেন্টুর ছবিসহ ব্যানার টানিয়ে দেয়।

এই ঘটনার পর সরকারি সীলগালা ভেঙে  কারখানার জায়গায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে ওইদিনই একটি চিঠি দেন ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। একই সঙ্গে কদমতলী থানায় ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির পক্ষে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওয়াহিদুর রহমান।

সীলগালা ভেঙে কারখানার জায়গায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) গত ৭ এপ্রিল একটি চিঠি দেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. আবদুল আউয়াল। কিন্তু পুলিশ গতকাল পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের ভূমিকায় বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল ওই কারখানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী। এই অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সেখানে থাকা বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী দুষ্কৃতকারীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কারখানার মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, একটি ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে অনেক ধরনের বিস্ফোরক সংরক্ষিত থাকে। ট্রাকমালিক সমিতির দখলের পর বিস্ফোরক দ্রব্য বিশেষ গোষ্ঠীর কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।       

জানা গেছে, ৭০ শতাংশ ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন এবং ৩০ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজের দুটি কারখানার একটি ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এবং অপরটি খুলনায় খুলনা (দাদা ম্যাচ) ফ্যাক্টরি। ২০১১ সালের ২১ মার্চ বন্ধের পর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ ঢাকা ও খুলনা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ফ্যাক্টরি দুটি রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসাইনের সঙ্গে গত ৮ মার্চ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কারখানার জায়গা অবৈধ দখলের ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা ট্রাকমালিক সমিতির লোকদের শুক্রবার অর্থাৎ গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এর মধ্যে জায়গা খালি করে না দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কিন্তু গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধভাবে দখল করা জায়গা ট্রাক মালিক সমিতির লোকজন খালি করেনি। এ বিষয়ে কদমতলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসাইন বলেন, এটি সরকারি জায়গা কেউ দখল করে রাখতে পারবে না। বিষয়টা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন। আরেকটি অর্ডার হতে পারে, সেই মোতাবেক আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অন্যদিকে ভাইয়া গ্রুপের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাকমালিক সমিতির নামে এভাবে প্রকাশ্যে একটি ফ্যাক্টরি দখল হলো, অথচ কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।