শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:৩৫

তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে হেফাজত

ব্রিফিংয়ে জানাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরের তান্ডবের আগে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই সরকারের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল মাওলানা বাবুনগরী এবং প্রধানমন্ত্রী মাওলানা মামুনুল হক। তান্ডব চালিয়েই সরকার হটানোর এই নীলনকশা এঁকেছিল হেফাজত। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোবারক উল্লাহসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের এমপি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অপরদিকে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা তিন মামলায় ২৪ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। ময়মনসিংহে গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিসহ দুজনকে। জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী ও শহর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মামুন মামলাটি সদর থানায় দাখিল করেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন মাওলানা আশরাফুল হোসেন তপু, বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা এরশাদ উল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মাওলানা নোমান আল হাবিব, মমিনুল হাসান তাজ, সুলেমান মোল্লা, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আবদুল হাকিম, মাওলানা মনজুরুল হক ও খালেদ মোশাররফ। সদর থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মামলাটি জমা নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও ১১ জন গ্রেফতার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে ইসলামী আন্দোলনের নেতাসহ আরও ১১ হেফাজত কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গ্রেফতার : হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভপাতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদীকে (৬৪) গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়াও ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মনজুরুল হককেও  (৫২) গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতালের নামে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড়ে পুলিশ বক্স ভাঙচুর, বাইপাস সড়কে বাসে আগুন, পুলিশের ওপর হামলাসহ নাশকতার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব : বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. হাবিবুর রহমান। গত শনিবার তিনি তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন ও সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় ডিআইজির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, সিআইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তান্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া ৫৫টি মামলার মধ্যে ৯টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে মাদরাসাছাত্রদের চালানো তান্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটি মামলার তদন্তভারও সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে এ ধরনের আচরণ করা সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনতাবিরোধী ও ইতিহাস-ঐতিহ্যবিরোধী কাজ। বাংলাদেশকে যেন পিছিয়ে দেওয়া যায়- এটি সে ধরনের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের কাজ বলে আমি মনে করি। যারা এই ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতা, যারা পরিকল্পনাকারী তারা ঘটনাস্থলে থাক বা না থাক, অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে। আইনের কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা আইনের আওতায় আসবে।

সোনারগাঁওয়ে তিন মামলায় মামুনুলের রিমান্ড শুনানি ৯ মে : হেফাজতের সাবেক নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা তিন মামলায় ২৪ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে পুলিশ ও ডিবির পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলায় ১০ দিন, রয়েল রিসোর্ট কান্ডের মামলায় সাত দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুরের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত আগামী ৯ মে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।