শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:২৩

শিক্ষাঝুঁকিতে দেশের ৫৯ লাখ শিক্ষার্থী

গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

করোনা মহামারীর কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৫৯ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থী ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর এপ্রিল থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত টেলিফোনে এ জরিপ করা হয়। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।

ফলাফলে বলা হয়েছে, ৫১ শতাংশ প্রাথমিক ও ৬১ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে কোচিং ও গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে আরও বলা হয়, মহামারীতে শিক্ষার ব্যয় গ্রামীণ পরিবারে ১১ গুণ ও শহুরে পরিবারে ১৩ গুণ বেড়েছে। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় এক বছর দুই মাস বন্ধ থাকায় প্রাথমিক স্তরের শতকরা ১৯ ভাগ ও মাধ্যমিক স্তরের ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী শিখন ঘাটতিতে রয়েছে। শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। যেসব শিশু সমাজের দরিদ্র শ্রেণিভুক্ত, তাদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষায় ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, মানসিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষমতা কমে যাবে এবং ঝরে পড়ার হার বাড়বে। শহরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ঘাটতির ঝুঁকি বেশি। ছাত্রীদের ২৬ ভাগ এবং ছাত্রদের ৩০ ভাগ এই ঝুঁকিতে রয়েছে। অতি দরিদ্র পরিবারের মাধ্যমিক স্কুলগামী ৩৩ ভাগ ছাত্রের কভিডসৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কায় স্কুল ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলাফলে আরও দেখা গেছে, দূরবর্তী শিক্ষণের জন্য যে সুবিধা থাকা দরকার তা আছে বা ব্যবহার করছে ১০ ভাগ শিক্ষার্থী। ফলে সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে এই বন্ধে লেখাপড়া শেখার হার খুব কম। স্কুলগামী ছেলেশিশুদের ৮ ভাগ এবং মেয়েশিশুদের ৩ ভাগ কোনো না কোনো উপার্জন প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে শহরের তুলনায় মানুষের আয় পুনরুদ্ধারের ও কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে, সেখানে এ হার বেশি। বক্তারা বলেন, ‘কভিড-পরবর্তী পর্যায়ে মানবসম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত কার্যক্রম, ক্লাসের বাইরের শিক্ষণ কর্মসূচিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শুধু শিক্ষা থেকেই দূরে সরে যাবে না, অদক্ষ হিসেবেও বেড়ে উঠবে।

এই বিভাগের আরও খবর