শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২৩:১৭

নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ

কলেজছাত্র ও শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু

প্রতিদিন ডেস্ক

Google News

ঝালকাঠিতে নির্বাচনের পর দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কলেজছাত্র ও মাদারীপুরে শ্রমিক লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পিরোজপুরে নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আরিফ হোসেন (২২) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে। নিহত আরিফ হোসেন উপজেলার ছোনউটা গ্রামের শিক্ষক শাহ আলম আকন লাল মিয়ার ছেলে ও বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অনার্স তৃতীয় বষের্র ছাত্র। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় ছোনাউটা  কেরাত আলী দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন স্থানে পিকনিকের আয়োজন করে আমুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত মেম্বার মজিবর রহমানের সমর্থকরা। এ সময় পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ফারুক মিয়ার কর্মী আলী হোসেন পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মজিবর রহমানের সমর্থকরা তাকে ধরে  বেঁধে রাখে।

এ খবর পেয়ে ফারুকের লোকজন আটক আলী হোসেনকে ছাড়াতে এলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বঁধে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রামদার  কোপ ও লাঠির আঘাতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে গুরুতর আহত হন আরিফ হোসেন (২২), আ. মালেক (৬০), আলিম সিকদার (৬০), সরিফুল ইসলাম (২৬), ইব্রাহীম আকন (২৫), শাহ আলম আকন (৬০), শাহনাজ পারভীন (৫০) ও সোহরাফ হোসেন আকন (৫৫)।

এদের মধ্যে কলেজছাত্র আরিফ ও আলিম সিকদারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে কলেজছাত্র আরিফ হোসেনের মৃত্যু হয়।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, নির্বাচন পরবতী দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আরিফ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। নিহত আরিফের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মাদারীপুর : শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন  কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত শ্রমিক লীগ নেতা আবু বকর ফকির (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে মারা গেছেন।

নিহত আবু বকর ফকির মাদবরেরচর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। তিনি নির্বাচনে সদস্য পদে বিজয়ী আজিজুল সরদারের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, মাদবরেরচর ইউপি নির্বাচনের আগের দিন ২৯ জুন রাতে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ প্রার্থী ইউসুফ সরদারের সমর্থকরা সাড়ে সতের রশি এলাকায় প্রচারণায় যায়। তখন  সেখানে প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থী আজিজুল সরদারের লোকজন তাদের বাধা  দেয়। এক পর্যায়ে ইউসুফ সরদারের সমর্থকরা আবু বকরকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আবু বকরকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  সেখানেই তিনি মঙ্গলবার রাতে মারা যান। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পিরোজপুর : নাজিরপুর সদর ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে আসামি করে মামলা করেছে প্রশাসন। মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকার বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর সবাই গ্রামছাড়া। গত রাতে পুরুষশূন্য গ্রামের প্রতি বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত সোমবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকাছিমা গ্রামে নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক মেম্বার প্রার্থীর কর্মীদের  হামলায়  ১৫ জন আহত হয়। এ সময় হামলাকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিপি সদস্যদের বহন করা গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসার মো. শাহ আলী আশ্রাফ বাদী হয়ে অন্তত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান জানান, স্থানীয় দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মামলায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের বাইরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। গত রাতে পুলিশ গ্রামের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে। পুরুষশূন্য গ্রামের বাড়িতে গিয়ে নারীদের গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে পুলিশ।

মোশারেফ হোসেন খান আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। পুলিশের ভয়ে বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে আবার ছেড়েও দিয়েছে।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় গ্রামের প্রায় সবাই জড়িত। ঘটনার পর পরই মামলা দায়ের করায় সবার নাম সঠিকভাবে জানা যায়নি। জড়িতদের বাইরে কাউকেই হয়রানি করা হচ্ছে না। নিরপরাধদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, নিরপরাধ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। শুধু জড়িতদেরই আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউপি সদস্যের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ : নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল জানান,  বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য কারান্তরিন ফিরোজ মৃধার মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে তার কর্মী-সমর্থকরা। গতকাল দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় কমলাপুর গ্রামের শতাধিক মানুষ থানার সামনে বিক্ষোভ করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনের আশ্বাসে বাড়ি ফেরেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর