শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু

ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে করোনা, খুলনা বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

জয়শ্রী ভাদুড়ী, ঢাকা ও সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন ১০৮ জন। এর আগে বৃহস্পতিবার মারা যান ৮১ জন। লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃতের ঘটনা। খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু ছাড়িয়েছে রেকর্ড।

স্বাস্থ্য অধিদফতরসূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৭৫ ও নারী ৩৩ জন। ১০৮ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩, বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ এবং বাসায় ১১ জন মারা যান। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫, চট্টগ্রামে ২৩, রাজশাহীতে ১৬, খুলনায় ২৭, সিলেটে ৩, রংপুরে ১০ ও ময়মনসিংহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৭৬। এর আগে ১৮ এপ্রিল ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯ এপ্রিল দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড আছে। এর পরে কমে এসেছিল সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। কিন্তু জুনের শুরু থেকেই আবার বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের ঘটনা। ঢাকার বাইরে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী জেলা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের জেলায়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪০টি অতি উচ্চঝুঁকিতে আছে। এর মধ্যে ১৫টি রয়েছে উচ্চঝুঁকিতে। আট জেলা রয়েছে মধ্যম ঝুঁকিতে। সংস্থাটি সংক্রমণে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করেছে। অতি উচ্চঝুঁকি, উচ্চঝুঁকি ও মধ্যম ঝুঁকি। বান্দরবানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় এ জেলাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ১০ জেলাই উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩২২ জন। যা এখন পর্যন্ত এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। এর আগে ১৮ জুন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত বিভাগে মোট শনাক্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ১১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের মোট সংখ্যা ৯৩৯। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ সাত, খুলনা জেলায় পাঁচ, যশোরে পাঁচ, ঝিনাইদহে দুই, চুয়াডাঙ্গায় এক, সাতক্ষীরায় এক, বাগেরহাটে এক ও মেহেরপুরে একজন মারা গেছেন। খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৩২ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৭৩, যশোরে ৩৭০, ঝিনাইদহে ১৭৯, কুষ্টিয়ায় ১১১, চুয়াডাঙ্গায় ১১৬ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের রেড জোনে (করোনা আক্রান্ত) পাঁচ ও ইয়েলো জোনে (উপসর্গ) এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এখানে বর্তমানে ১৫৪ জন ভর্তি রয়েছেন। যার মধ্যে এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ১৬ জন। খুলনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। গাজী মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মিজানুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এখানে ৯৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে নয় ও এইচডিইউতে সাত জন চিকিৎসাধীন। খুলনার পরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঢাকায়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ‘মানুষ যদি মাস্ক না ব্যবহার করে, সভা-সমাবেশ করে, গায়ে গায়ে লাগিয়ে চলাচল করে তাহলে করোনার সংক্রমণ বাড়বেই। কাজেই সারা দেশে এখন কমবেশি বিধিনিষেধ থাকতে হবে। যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শপিং মলসহ সব বিপণিবিতানকেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। যেখানে সংক্রমণ বেশি সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ থাকতে হবে। আবার যেখানে কম সেখানে তো একেবারেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যেখানে সংক্রমণের হার কম সেই জায়গাও প্রতিরক্ষা করতে হবে। যেখানে বেশি আছে সেখানে কমাতে হবে। দেশের কোনো এলাকা এখন পুরোপুরি নিরাপদ নয়।’

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর