শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জুন, ২০২১ ২৩:২০

হোলি আর্টিজানের মতো হামলার আশঙ্কা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

হোলি আর্টিজানের মতো হামলার আশঙ্কা নেই
Google News

র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘হোলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা নেই দেশের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর। তবে জঙ্গিরা চাইলে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ সাইবারজগতে আমাদের প্যাট্রলিং অব্যাহত আছে। আমরা সব সময়ই অপরাধীদের চেয়ে এক স্টেপ এগিয়ে থাকায় অনেক বড় বড় ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’ গতকাল রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দফতরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর পূর্তি সামনে রেখে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে নয় হামলাকারী ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে গুলিবর্ষণ করে। হামলাকারীরা বোমা নিক্ষেপ ও কয়েক ডজন মানুষকে জিম্মি করে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলি ও বোমা বর্ষণের ফলে অন্তত চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরবর্তী সময়ে সিলেটে জঙ্গি হামলায় নিহত হন র‌্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা-প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। সে ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরও তিন কর্মকর্তা। চৌধুরী মামুন বলেন, ‘হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর প্রায় দেড় হাজার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছি এতে জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। তাদের থেকে আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি। এ মুহূর্তে আমাদের গোয়েন্দাতথ্য বলছে জঙ্গিদের সামর্থ্য নেই আক্রমণাত্মক হওয়ার। হোলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সারোয়ার জাহানসহ অর্থদাতা অনেককেই গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। হোলি আর্টিজানে হামলার আগে থেকে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা শুধু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছি না। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারও চালাচ্ছি। জঙ্গিবাদে জড়িত ১৬ তরুণ-তরুণী এখন পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে এলিট বাহিনীটি। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।’ র‌্যাব ডিজি বলেন, কিশোর অপরাধ নিরোধে র‌্যাব কাজ করছে। কিশোর গ্যাং, মাদক ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সন্তানরা যাতে জড়িত না হয় সেদিকে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘একটু নজরদারি করলেই আমাদের সন্তানদের পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে ফেরানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে আমরা সবাই মিলে একযোগে কাজ করব।’

মাদক নিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা অপ্রচলিত কিছু মাদক দেখতে পাচ্ছি। আইস, এলএসডির পর ডিএমটি নামে মাদকের সন্ধান মিলেছে। আমরা এসবের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারও করছি। এরই মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কিছু নাশকতার পরিকল্পনা হয়েছিল, আবার রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম হয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতার করেছি।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এ ধরনের কার্যক্রম করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী মামুন বলেন, অনেক মামলারই রহস্য উদ্্ঘাটন করা যায় না। তবে সাগর-রুনি হত্যা মামলার রহস্য উদ্?ঘাটনে র‍্যাব কাজ করছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল কে এম আজাদ ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, গোয়েন্দা-প্রধান লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম, আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ছাড়াও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর