শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৬

রাস্তায় বাড়ছে যানজট তল্লাশি, জরিমানাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাস্তায় বাড়ছে যানজট তল্লাশি, জরিমানাও
রাজধানীর শাহবাগে গতকাল ছিল তীব্র যানজট -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়কে মানুষ ও গাড়ির আনাগোনা আরও বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউনে প্রথম দিকে বেশ কড়াকড়ি দেখা গেলেও ক্রমেই জনসাধারণের মধ্যে শিথিলতা তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা থাকলেও অলিগলিতে বিভিন্ন ধরনের দোকান খোলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চলা মাইকিং উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা লকডাউনের মধ্যে আর্থিক সংকটে পড়ে তাদের এখন আর কোনো উপায় নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৪৬৭ জন। আর মামলা ও জরিমানার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৮৭টি গাড়ি। মোট জরিমানা করা হয়েছে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ২৫ টাকা। আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০৫ জনকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৮০ টাকা জরিমানা করেছে। অন্যদিকে, সারা দেশে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ  আদালতে ৪১৫ জনকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। র‌্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সারা দেশে র‌্যাবের ১৯১টি টহল এবং ২০৭টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। সারা দেশে র‌্যাব সারা দেশে ৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধকরণে বিনামূল্যে ৩ হাজারের অধিক মাস্ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুসারে, খুলনায় লকডাউনে ফের শিথিলতা দেখা গেছে। গতকাল সকাল থেকে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের পাশাপাশি ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যান চলাচল করেছে। পাড়া-মহল্লায় দোকানপাট, চায়ের দোকান খোলা রয়েছে। বিভিন্ন অলিগলিতে জটলা করেও আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেককে। লকডাউনের মধ্যেই গতকাল থেকে খুলনায় টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজার দরের তুলনায় কম হওয়ায় টিসিবি পণ্য কিনতে ভিড় করে সাধারণ মানুষ। গতকাল নগরীর নিউমার্কেট ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় সরেজমিন কয়েক শ মানুষকে লাইনে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে টিসিবির তেল, চিনি ও ডাল কিনতে দেখা যায়। এ সময় তাদের শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। নাগরিক নেতারা বলছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই এভাবে লোকসমাগম করায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঝিনাইদহে ষষ্ঠ দিনে ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন চলছে। নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নিদের্শ দিলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি নিয়ে খুলছে অনেকে। সড়ক, মহাসড়ক, হাটবাজারে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সেনাবাহিনী লকডাউন কার্যকর করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে চালাচ্ছে অভিযান, সেই সঙ্গে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। বাইরে বের হওয়া ব্যক্তিদের করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ। তবুও প্রশাসনকে আড়াল করে শহর ও  গ্রামে চলাফেরা করছে মানুষ।

লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রাস্তঘাটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কার্যকর হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষবাহিনীর তৎপরতা। উপজেলা সদরের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই যে, কঠোর লকডাউন চলছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নানা অজুহাতে ঘোরাফেরা করছে মানুষ। মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি। এখনো মাস্ক পরায় অনীহা অনেকের। পড়লেও অধিকাংশ মানুষের মাস্ক নেই যথাস্থানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যামাণ আদালতের অভিযানেও সড়কে কমছে না মানুষ ও যানবাহনের চলাচল। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রাইভেট কার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে মানুষ। বড় শপিংমল বন্ধ থাকলেও খোলা হয়েছে অলিগলির অধিকাংশ দোকানপাট। এতে করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

কিশোরগঞ্জে আগের তুলনায় লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে গতকাল অনেকটা কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। ফলে জরুরি কাজে নিয়োজিত ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন সহজে চলতে পারেনি। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় ছিল অনেকটা ফাঁকা। লকডাউনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর হলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে প্রশাসন শিথিলতা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। বিভিন্ন সড়কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের টহল দলও সক্রিয় ছিল। অযাচিতভাবে যানবাহন চলাচল করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেককে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু অটোরিকশা আটক করে পুরাতন স্টেডিয়ামে রাখা হয়। লকডাউনের শুরু থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে বিধিনিষেধ অমান্য করায় ১৫ জনকে  ১০ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চার ব্যবসায়ী ও নয় পথচারীকে ৩ হাজার  ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বগুড়ার সোনাতলায় লকডাউনে বিধিবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেল চালানোয় এবং করোনাকালীন নির্দেশনা অমান্য করায় ১০টি মোটরসাইকেল আটক ও ১২টি বিরুদ্ধে মামলা করেছে সোনাতলা থানা পুলিশ। ১২ মামলায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় এবং অহেতুক বাইরে ঘোরাফেরা করায় মোট ১৫৪৬ জন ব্যক্তিকে ৮ লাখ ৫০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬ থানা ও ট্রাফিক বিভাগ বিধি বহির্ভূতভাবে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৯৬টি মামলা দায়ের করেছে। অভিযান চলাকালে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ও আটক করা হয় ১১টি যানবাহন।