শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৪৩

অক্সিজেন-আইসিইউর অভাবে মানুষ মরছে মেনে নেওয়া যায় না

মাহমুদ আজহার

অক্সিজেন-আইসিইউর অভাবে মানুষ মরছে মেনে নেওয়া যায় না
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
Google News

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, করোনায় আইসিইউ আর অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। দেড় বছর আগেই আমি সরকারকে বলেছি, সারা দেশে দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করুন। কিন্তু  আমার কথা কেউ কানে নেয়নি।  শুধু  আইসিইউ মেশিন বসালেই হবে না, এটা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে আইসিইউ ব্যবহার নিয়ে ট্রেনিং করাতে হবে। টাকা দিলেই তো মেশিন চলে আসবে। কিন্তু এটা ব্যবহার জানতে হবে। এ জন্যই বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সংকট নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে প্রবীণ এই চিকিৎসক এসব কথা বলেন। কোরবানির ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদে লোকজন বাড়ি যাবে। দেশে আরও রোগ ছড়াতে পারে। সবাইকে বাড়ি না যাওয়ার অনুরোধ করতে হবে। তারপরও যারা বাড়ি যাবে, তাদের সবাইকে টেস্ট করিয়ে যাওয়া উচিত। প্রতিদিন অন্তত আমাদের এক থেকে দেড় লাখ করোনার টেস্ট করানো দরকার। কিন্তু আমরা এখনো ৩০-৩৫ হাজারের মধ্যেই পড়ে আছি। আরেকটি বিকল্প পদ্ধতি ছিল অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করানো। আমরা অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার অনুমোদন দেয়নি। এখন ভোগান্তি বাড়ছে। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আইসিইউ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আরেকদিকে পর্যাপ্ত মেশিন কিনে ভালোভাবে তার ব্যবহার করতে হবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে লোকজনকে ট্রেনিং দিয়ে মেশিন চালানোর উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশেই মেশিন বসাতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক, নার্সসহ পর্যাপ্ত টেকনেশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। সবাইকে ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অক্সিজেন সংকট প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য জার্মান একটি কোম্পানি আছে। তাদের উৎপাদন ডবল করার জন্য বলতে হবে। তারা উৎপাদন দিগুণ না করে ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি করছে। প্রতিটি জেলায় সরকার অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর উদ্যোগ নিতে পারে। এতে প্রতিটি প্লান্টে ৬ কোটি টাকা খরচ হবে। সারা দেশে মোট খরচ হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। তাহলে আর বাইরে থেকে অক্সিজেন আমদানি করতে হবে না। আজকে অর্ডার দিলে তিন মাসের মধ্যেই দেশ সব মেশিন চালু করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। 

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দ্রুত টিকা সমস্যার সমাধান করা দরকার জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, রাশিয়ান এক টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানি আমাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে টিকা সরবরাহ চেয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিস্তারিত জানিয়েছি। সেখানে প্রতিটি টিকার দাম পড়বে ৮ ডলার। চিঠিতে আমরা ২ কোটি টিকার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেছি। তবে প্রধানমন্ত্রী বসলে দাম আরও কমানো যেতে পারে। তাছাড়া ভবিষ্যতে আরও টিকার ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে সরকারের টিকা সরবরাহ নিয়ে চুক্তি হওয়ার খবর যে গণমাধ্যমে বেরিয়েছে তা সঠিক নয়। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাগল হয়ে গেছেন। যা খুশি তাই বলছেন। কারণ, রাশিয়ার টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানির বাংলাদেশের এজেন্ট আমরা। আমি মনে করি, এখনই আমাদের টিকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, করোনার চিকিৎসা নিয়ে সংকট কাটেনি, বরং বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুও বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মিথ্যা কথা না বলে সরকারকে টিকা আনতে হবে। সরকার যদি চায় আমাকে অর্ডার দিলে সাত দিনের মধ্যেই ২ কোটি টিকা দিতে পারব। এতে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ নিয়ে সরকারকে আমি লিখিতভাবেও বলেছি। কিন্তু সরকার সাড়া দিচ্ছে না। আমার ভ্যাকসিনের দাম কম। তাই হয়তো নিচ্ছে না। যার দাম বেশি তাই সরকার নিচ্ছে। সরকার চীন থেকে ১০ ডলারে টিকা কিনছে। বাইরে অন্যান্য জায়গা থেকে ২০-৩০ ডলারে কিনবে।