শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
কোরবানি হাটের অনুমতি আছে প্রস্তুতি নেই

পশু বেচাকেনা চলছে অনলাইনে

আকতারুজ্জামান

পশু বেচাকেনা চলছে অনলাইনে

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধের কারণে হাটগুলো বসানোর তেমন কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। এদিকে কোরবানি সামনে রেখে অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পশু বেচাকেনা চলছে। রবিবার পশু বিক্রির ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনসিসির অধীন ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন। এ ছাড়াও বেশ কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলছে। তথ্য মতে, ডিএনসিসি মোট ১০টি কোরবানির পশুর হাটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাটগুলোতে ঈদের দিনসহ পাঁচ দিন পশু বিক্রি করা যাবে। এ হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর), দক্ষিণখানে কাওলা শিয়ালডাঙ্গা-সংলগ্ন খালি জায়গা, খিলক্ষেতে ৪৩ নং ওয়ার্ড পূর্বাচল ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা, পল্লবীতে মিরপুর সেকশন ৬-এর খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক হাউজিং প্রকল্প এলাকা, তুরাগে উত্তরা ১৭ সেক্টরে খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) অস্থায়ী পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বছিলা ৪০ ফুট-সংলগ্ন এলাকায়, খিলক্ষেতে ৪৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় ও গাবতলী পশুর হাট। এ ছাড়া ডিএসসিসিও ১০টি পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে। এসব হাটের মধ্যে রয়েছে, ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ-সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট-সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন খালি এলাকা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল উন্মুক্ত এলাকা, গোলাপবাগে ডিএসসিসি মার্কেটের পেছনের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘ ক্লাবের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ-সংলগ্ন খালি জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব-সংলগ্ন খালি জায়গা ও লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাব-সংলগ্ন খালি জায়গা। জানা গেছে, আগামী রবিবার ডিএসসিসির আরও তিনটি পশুর হাট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পশুর হাটের অনুমতি থাকলেও হাট বসানোর তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। গতকাল আফতাবনগর পশুর হাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পশুর হাট উপলক্ষে প্রধান সড়কে ও ভিতরে মোট দুটি তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। তবে পশু বাঁধা বা বিক্রির জন্য কোনো খুঁটিও স্থাপন করা হয়নি। এ হাটের ইজারাদার (ডিএনসিসি) মো. মাহবুবুর রহমান (শিমুল) বলেন, ১২ জুলাইয়ের মধ্যে হাটের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া এ হাটটি দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) পৃথক দুজন ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছে। এ নিয়েও সংকট রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগের পাঁচ দিন পশু বেচাকেনা চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব কর্মকান্ড মনিটরিং করা হবে।

ডিজিটাল হাট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ডিজিটাল হাট (www.digitalhaat.net) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রবিবার মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল হাট উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে আয়োজিত হলেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ছাড়াও সাভার পৌর এলাকার ক্রেতারা ওয়েবসাইট থেকে পশু কিনতে পারবেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য পৌরসভা অনলাইনে হাট করার সিদ্ধান্ত নিলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে। পশু কেনার আগে বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেও পশু কেনা যাবে। জানা গেছে, ওয়েবসাইটে গরু পছন্দ করে অর্ডার দিলে কোরবানি দিয়ে বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা রেখেছে সিটি করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, যারা প্রফেশনালদের মাধ্যমে কোরবানি দিতে চান, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তা জানাতে হবে। রাজধানীর ২০ হাজারেরও বেশি খামার এবার অনলাইনে অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে বড় কয়েকটি খামার কোরবানির পশু দক্ষ কসাই দিয়ে জবাই করে মাংস পাঠিয়ে দেয় বাসায় বাসায়।