শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:২১

মৃত্যু ও শনাক্তের হার অপরিবর্তিত

২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২১০, শনাক্ত ১২ হাজার ৩৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত্যু ও শনাক্তের হার অপরিবর্তিত
Google News

লকডাউনেও কমছে না করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় টানা চতুর্থ দিনের মতো ২ শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজারের বেশি। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ২৯.১৪ শতাংশ। অথচ, ১ জুলাই কঠোর লকডাউন শুরুর দিনেও ২৫.৯০ শতাংশ শনাক্ত হারের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর, যা গতকালের চেয়ে ৩.২৪ শতাংশ কম। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গত বছরের ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর ১৬ মাসেরও কম সময়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫২ জন। মোট মৃতের ৯ হাজার ৪৫৮ জনই (৫৫.৪৭ ভাগ) ছিলেন ষাটোর্ধ্ব। এ ছাড়া ৪ হাজার ১১০ জন পঞ্চাশোর্র্ধ্ব, ২ হাজার ৯ জন চল্লিশোর্ধ্ব, ৯৬৫ জন ত্রিশোর্ধ্ব, ৩৫১ জন বিশোর্ধ্ব ও ১১ থেকে ২০ বছর বয়সসীমার ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১ বছরের কম বয়সী শিশু মারা গেছে ৫৩ জন। এদিকে দেশের অধিকাংশ জেলাতেই করোনা সংক্রমণের উচ্চহার বজায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪২ হাজার ৪৯০টি নমুনা পরীক্ষায় ১২ হাজার ৩৮৩ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৯.১৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের গড় শনাক্ত হারের চেয়ে কম হার ছিল ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে। বাকি পাঁচ বিভাগেই শনাক্তের হার ছিল দেশের গড় হারের চেয়ে বেশি। এই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় যথাক্রমে বরিশাল বিভাগে ৪০.৩২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৩১.১৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ২৯.৮৯ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ২৭.৯৩ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭.৪৮ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ২০.৬৮ শতাংশ মানুষের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭ হাজার ৫২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ২৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২১০ জনের মধ্যে ১৩১ জন ছিলেন পুরুষ ও ৭৯ জন নারী। গতকাল পর্যন্ত মোট মৃতের ১১ হাজার ৯১৩ জনই (৬৯.৮৬ ভাগ) ছিলেন পুরুষ ও ৫ হাজার ১৩৯ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৯৭ জন ও বাড়িতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া ৪৬ জন খুলনা, ৩৯ জন চট্টগ্রাম, ১৫ জন রাজশাহী, ১৪ জন রংপুর, ১০ জন বরিশাল, নয়জন সিলেট ও আটজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ১০৭ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ৫২ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ২৯ জন চল্লিশোর্ধ্ব, ১৪ জন ত্রিশোর্ধ্ব, সাতজন বিশোর্ধ্ব ও একজনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এদিকে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও বাড়ছে না নমুনা পরীক্ষা। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ৩২২টি, যা মোট নমুনা পরীক্ষার মাত্র ৩.১১ শতাংশ। সিলেট বিভাগে পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮২টি নমুনা, যা মোট নমুনা পরীক্ষার ২.৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ১১০টি, যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৪২.৬২ শতাংশ। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৭৬১টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ হাজার ২৫৯টি, রাজশাহী বিভাগে ৫ হাজার ৭৮৪টি, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৯৬৭টি, খুলনা বিভাগে ৫ হাজার ২০৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে গত এক দিনে।

এই বিভাগের আরও খবর