শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:২৫

গ্যাটকো মামলায় হাই কোর্ট

খালেদা জিয়াসহ আসামিদের অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তাই ছয় মাসের মধ্যে মামলা শেষ করার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে দুই আসামির করা আবেদন খারিজ করে ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট এ রায় দেয়। রায়ের ৯৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আর এতে আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন তাঁর ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো। আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও বলে, এ মামলা খালেদা জিয়াসহ বাকিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। গ্যাটকোকে কাজ পাইয়ে দিতে কোকোর কাছে তদবির করেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে।

কোয়াশমেন্ট পিটিশনের রুল খারিজ করে দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, কীভাবে কোকো তার মাকে (খালেদা জিয়া) ম্যানেজ করে কাজ পাইয়ে দিয়েছিল। সেখানে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটা রায়ে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে এ মামলাটি চার্জ গঠনের ওপর শুনানির জন্য রয়েছে। করোনার কারণে এখন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ আছে। আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে মামলাটি যথা সময়ে নিষ্পত্তি হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে (গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড) ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। মামলার ২৪ আসামির মধ্যে অন্যতম আসামি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, আরাফাত রহমান কোকোসহ ছয়জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

অভিযোপত্র দাখিলের পর চার্জশিটভুক্ত আসামি খালেদা জিয়াসহ আসামিদের কয়েকজন ওই মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন। সর্বশেষ দুই আসামি গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাই কোর্ট ২০১৮ সালে জারি করা রুল খারিজ করে দেয়।