শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনার এ লড়াইয়ে জিততেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার এ লড়াইয়ে জিততেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। তবে এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে এবং আমরা জিতব ইনশাল্লাহ। ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার সকালে এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে ‘জিততেই হবে’। আর এই  লড়াইয়ে আমরা অনেক আপনজন হারিয়েছি। আজকে তাদের স্মরণ করছি। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ভিডিওবার্তার শুরুতেই দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে। প্রবাসী ভাইবোনদের প্রতিও রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। কোরবানির ‘ত্যাগের মহিমায়’ উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

গণভবনে যেভাবে ঈদ উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী : করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে টানা তৃতীয়বারের মতো গণভবনে গণমানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটি গণভবনে কাটিয়েছেন। করোনামুক্ত সময়ে প্রতি বছর দুই ঈদের দিন যেভাবে সাধারণ মানুষের কোলাহলে মিশে যেতেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন, করোনা মহামারীর কারণে গত দেড় বছর ধরে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার দুটি গরু ও ছয়টি ছাগল কোরবানি দিয়েছেন। তিনি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানির মাংস বণ্টন করেছেন। এতিমখানায়ও খাবার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী গণভবনের স্টাফদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার দিয়েছেন। স্টাফদের মাঝে মাংস বিলি করেছেন। গণভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী গণভবনের স্টাফদের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করেছেন। করোনা মহামারীর কারণে প্রতিটি ঈদে গণভবনে যে রীতি থাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি মিশে যান। কারণ দুই ঈদে গণভবনে প্রবেশ করতে কোনো পাস লাগে না, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এবার সেই কোলাহল নেই। এটি তাঁর জন্য বেদনার বিষয়ও।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার : এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডস্থ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলমূল ও মিষ্টি উপহার পাঠান।

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দিউবাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার পঞ্চমবারের মতো উচ্চপদে ফিরে আসা এবং নেপালের সংসদ কর্তৃক আপনাকে প্রদত্ত নিরঙ্কুশ সমর্থন তা আপনার নেতৃত্বের ওপর জনগণ এবং নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে তারই প্রমাণ।’ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে একাধিক অভিন্ন এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী গভীর আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, শের বাহাদুর দিউবার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতা সম্ভাব্য খাতে সুযোগগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে আরও গভীর করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী নেপালের রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফরের কথা স্মরণ করেন, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মতো দুটি অনুষ্ঠানে অপরিসীম মূল্য সংযোজন করেছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে শের বাহাদুর দিউবাকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনা নতুন প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে নেপালের বন্ধুপ্রতিম জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নতি কামনা করেন।