শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:০৮

দেড় বছর পর মাঠে গড়াল রাজনীতি

তৃণমূলে কোন্দল নিরসনই চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের

রফিকুল ইসলাম রনি

তৃণমূলে কোন্দল নিরসনই চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের
Google News

দীর্ঘ করোনার বিরতির পর মাঠে গড়িয়েছে দেশের রাজনীতি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দলের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক ফোরাম। নির্বাচন ও সম্মেলন ঘিরে করণীয় সম্পর্কে বার্তা দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদ এবং শনিবার সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন দলীয় প্রধান। ঘর গোছাতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

দলটির নেতারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ দ্ধন্ধ-কোন্দলে নাকাল তৃণমূল আওয়ামী লীগ। গ্রুপিং, পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা ও বহিষ্কার, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং হামলা-মামলা লেগেই আছে। আর এ দ্ধন্ধে মূল নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। বারবার নির্দেশনার পরও বিভেদের রাজনীতির কারণে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এসব ঘটনা। রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি জোটের মোকাবিলার চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দলটিকে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা) নির্বাচন সামনে রেখে এ বিরোধ ও কোন্দল আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে জেলা, উপজেলার সম্মেলন ঘিরেও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে দলাদলি। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত দল ও সরকারের হাইকমান্ড। সে কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোন্দল নিরসন ও সংগঠন ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথ সভায় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা যেহেতু কমেছে আমি চাই আপনারা সাংগঠনিক কাজ শুরু করুন। সামনে নির্বাচন তাই এখন থেকেই কাজ শুরু করুন। কোন্দল নিরসন করুন। আপনারা যখন সম্মেলনসহ সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন এলাকায় যাবেন তখন দলীয় নেতৃত্ব এমন লোকের হাতে তুলে দেবেন যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দলের জন্য কাজ করেন এবং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডি অফিসে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, এস এম কামাল হোসেন। বৈঠকে কোন্দল নিরসন ও সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রমতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালীর বসুরহাট। বেশ কয়েক মাস ধরে সেখানে পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা চলছেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কারণে জেলা শহরে বসবাস করতে পারেন না জেলা সভাপতি। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগে চলছে এক নেতার শাসন। তিন বছরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্ধন্ধের জেরে সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকারকে অব্যাহতি দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়ার খান বিপ্লব। দলীয় দ্ধন্ধের কারণে সংঘাত এড়াতে সাদুল্যাপুর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে। সাদুল্যাপুর বা বুড়িচংয়েই নয়, সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল মূলত নেতায় নেতায় ব্যক্তিগত স্বার্থে। গঠনতন্ত্রে বিধান না থাকলেও এক পক্ষ বহিষ্কার করছে অন্য পক্ষকে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে নিজেদের লোকদের দিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে কমিটি, যার জেরে বাড়ছে দ্ধন্ধ, ঘটছে সংঘর্ষ। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় সম্প্রতি তৃণমূলের (উত্তর ও দক্ষিণের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট) খারাপ অবস্থার কথা উঠে আসে। দায়িত্বশীল নেতারাই এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল ঢাকা। পদবাণিজ্য এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের দেওয়া চেয়ারে বসে পদবাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।’ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সংগঠন শক্তিশালী করতে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। জেলা-উপজেলা ও মহানগরে বিবদমান নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে সমস্যা সমাধানে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন তারা। তারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রকে আরও কঠোর হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে কিছু জায়গায় আমাদের সমস্যা আছে। সেগুলো নিরসনে কাজ করছি।’

এই বিভাগের আরও খবর