রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

টিকা বিড়ম্বনা কাটছে না প্রবাসীদের

ফাইজার-মডার্নার জন্য ঘুরছেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বিক্ষোভ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

টিকা বিড়ম্বনা কাটছে না প্রবাসীদের

মডার্না-ফাইজারের টিকার দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ করেন প্রবাসীরা ছবি : সংগৃহীত

সিলেট থেকে ঢাকা এসেছেন সৌদি প্রবাসী সিদ্দিক, রায়হান, মজিবর ও রফিক। গত সপ্তাহের রবিবার টিকা গ্রহণের নির্ধারিত দিনের জন্য মোবাইলে এসএমএস পেয়েছেন। সেই হিসেবে আগের দিন রাতে এসেই কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছেন। আশা দীর্ঘ লাইনের সামনে থেকে সকাল সকাল টিকা গ্রহণ করবেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত মেলেনি কাক্সিক্ষত টিকা। সিদ্দিক জানান, হাসপাতালের লোকেরা শুধু আজ নয় কাল বলে ঘোরাচ্ছে।

মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা এসেছেন আরেক প্রবাসী ইব্রাহিম খলিল। গতকাল তার টিকা গ্রহণের নির্ধারিত এসএমএস এসেছে। ফজরের নামাজের পরই এসেছেন টিকা গ্রহণের জন্য। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর যখন টিকা দেওয়া শুরু হয় তখন ইব্রাহিমকে বলা হয় তার এসএমএস ভুয়া। সিদ্দিক ইব্রাহিমের মতো কয়েকশ প্রবাসী গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একপর্যায়ে নেমে পড়েন বিক্ষোভে। ফাইজার-মডার্নার টিকার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় প্রবাসীরা হাসপাতালের সামনের সড়কও অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। বিক্ষোভরত প্রবাসীরা জানান, টিকার এসএমএস পাওয়ার পর তারা সেখানে টিকা নিতে আসেন। কিন্তু সেখানে ফাইজার কিংবা মডার্নার টিকা না থাকায় সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা নিলে সৌদি আরবে প্রবেশ করা যাবে না। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এখন আমরা কী করব? আমরা অনেক টাকা খরচ করে টিকার জন্য গ্রাম থেকে এসেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সৌদি আরব অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দিলেও প্রবাসীরা বলছেন নির্ধারিত টিকা ছাড়া যেতে পারবেন না কর্মস্থলে। আর হাসপাতালে সিনোফার্ম ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ছাড়া প্রথম ডোজের কোনো টিকা নেই। টিকার সরবরাহ না থাকলে আমরা আপনাদের কীভাবে দেব- প্রবাসীদের পাল্টা এমন প্রশ্ন করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, আপনারা কেউ সিনোফার্মের টিকা নিলে এখনই দিতে পারব। আমাদের কাছে শুধু দ্বিতীয় ডোজের জন্য মডার্নার টিকা আছে। শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের গতকালের ঘটনাই নয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও কাক্সিক্ষত টিকা মিলছে না প্রবাসীদের। মূলত গত মাসে মডার্নার টিকা দেওয়া বন্ধ হওয়ার পর থেকে এ সংকট শুরু হয়। দূরদূরান্ত থেকে রাজধানীতে এসে হাসপাতালের সামনে রাত কাটাচ্ছেন তারা। তাদের একজন কাতার প্রবাসী গাইবান্ধার কাদের মিয়া। করোনার আগ মুহুর্তে দেশে এসে বিপাকে পড়ে তিনি। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকলেও দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। কাদের বলেন, ৮ আগস্ট রেজিস্ট্রেশন করেছি। কেন্দ্র ছিল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল। কিন্তু সেখানে টিকা দিচ্ছে না। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গেলাম। ওখান থেকে বলল, এই কেন্দ্র থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে যেতে পারলে টিকা নেওয়া যাবে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা হলো। এখন টিকা না নিয়ে গেলে ১৪ দিন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এতে ১ লাখ টাকার বেশি খরচ হবে। আর টিকা নেওয়া থাকলে দুই দিন কোয়ারেন্টাইন করলে হবে। এখন আমাকে কোয়ারেন্টাইনের এত টাকা কে দেবে। চট্টগ্রামের রাউজানের সৌদি প্রবাসী মানিকের ঢাকা মেডিকেলে টিকার দেওয়ার রেজিস্ট্রেশন করা। মানিকও দুই সপ্তাহে তিনবার ঢাকা এসেছে এই টিকার জন্য। টিকা না পেয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন দুই দিন ধরে। মানিক জানান, সব হাসপাতাল থেকেই খালি বলা হয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু এখানেও কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আমার ভিসার মেয়াদ আছে ৪২ দিন। ভিসার মেয়াদের মধ্যে দুই ডোজও তো নিতে পারব না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, টিকার বিষয়ে নিয়মিতই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকার সংস্থান আর সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া তাদেরও কিছু করার নেই। কর্মকর্তারা জানান, ১ সেপ্টেম্বর দেশে নতুন করে ফাইজারের ১০ লাখ টিকা এসেছে। কিন্তু সেই টিকা কবে নাগাদ দেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সর্বশেষ খবর