বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে উত্তেজনা, বিজিবি মোতায়েন

সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের শাস্তি হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মন্ডপ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন এ নিয়ে গতকাল নানুয়ার দিঘিরপাড়ে মিছিল করে। তাদের অভিযোগ, পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নগরীতে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কুমিল্লা পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল বলেন, পূজামন্ডপের প্রতিমায় কোরআন শরিফ রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ গিয়ে তা সরিয়ে নেয়। কিন্তু এর পরপরই একদল লোক বেশ কিছু পূজামন্ডপে হামলার চেষ্টা চালায়।

এদিকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বৈঠক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, দুটি মন্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি  ছোড়ে। এদিকে নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, কান্দিরপাড় ও ঠাকুরপাড়া এলাকায়ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, আমরা পবিত্র কোরানের মর্যাদা বুঝি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা আমাদের বলেছেন, পূজা বন্ধ রাখতে। আমরা তাদের পূজা চালিয়ে যেতে বলেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ইসলামেও কারও ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার বিধান নেই।

পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ঘটনার সঙ্গে হিন্দু-মুসলমান যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুমিল্লার সব স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হবে : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

এদিকে কুমিল্লায় পূজামন্ডপে হামলার প্রেক্ষাপটে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেছেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে-ই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’ গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে না নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে কুমিল্লায় পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো। বিবৃতি দিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই ও মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাইখ যিয়াউদ্দীন ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল আজিজ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান, আমিরে শরিয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আল্লামা সারওয়ার কামাল আজিজী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইনেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংহতি মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা একেএম আশরাফুল হক জহার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আল্লামা সারওয়ার কামাল আজিজী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার।

সর্বশেষ খবর