বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

হজ খরচ বাড়ল লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, এবার হজযাত্রায় প্রত্যেক যাত্রীর লাখ টাকারও বেশি বাড়তি খরচ হবে। গতকাল সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এদিকে আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্যাকেজ ঘোষণা করবে এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’। হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে একটি প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্যাকেজ ঘোষণা হলেও করোনার কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যেতে পারেননি। তখন হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ খরচ ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্যাকেজ-৩ এর খরচ ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী প্যাকেজ-১ এর ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৪০ টাকা, প্যাকেজ-২ এর ক্ষেত্রে এবার খরচ বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৫০ টাকা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিরা সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় হজচুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জনসহ মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ পাবেন। হজযাত্রীর বিমান ভাড়া, সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, মুয়াল্লেম ফি জমজমের পানি, খাবার খরচ এবং অন্যান্য ফি হিসাব করে ২০২২ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি প্যাকেজ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এজেন্সিগুলোর জন্য একটি প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে।

হজ প্যাকেজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্বে ব্যয় বাড়েনি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল ২৩ টাকা। আজ এই হারের পরিমাণ ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এটিও প্যাকেজ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া সৌদি আরব পর্বে সব খাতের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ কর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোয়াচ্ছাছার খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। প্যাকেজ মূল্যবৃদ্ধির জন্য এ কারণগুলো দায়ী। এ বছর তৃতীয় প্যাকেজ রাখা হয়নি। ২০২০ সালের তিনটি প্যাকেজের যে কোনোটিতে নিবন্ধিত হজযাত্রীকে ২০২২ সালের জন্য ঘোষিত প্যাকেজ-১ অথবা প্যাকেজ-২ এর যে কোনো একটি প্যাকেজ নির্বাচন করে প্যাকেজ স্থানান্তরের মাধ্যমে ২০২২ সালের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ স্থানান্তরের এ অর্থ প্রাপ্তি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করবে। অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে হজযাত্রীকে ই-হজ সিস্টেম থেকে তার পিলগ্রিম আইডি প্রদান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ মিটারের মধ্যে এবং প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন। বিমানের টিকিট বাবদ নেওয়া অর্থ এজেন্সি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবে না। হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী সরাসরি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এয়ারলাইনসকে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও পরিবহন বাবদ গৃহীত অর্থ আইবিএসএন (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর) এর মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠানো ছাড়া এজেন্সি উত্তোলন করতে পারবে না। এ বছর রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকার হজযাত্রীদের শতভাগ হজযাত্রীর সৌদি আরবের প্রি-এরাইভাল ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক হজ এজেন্সি কমপক্ষে ১০০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজযাত্রী পাঠাতে পারবে। হজ এজেন্সি ছাড়া অন্য কোনো এজেন্সির কাছে হজযাত্রীর বিমান টিকিট বিক্রির জন্য অনুমতি দেওয়া যাবে না। প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে গাইড নিয়োগ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের কোরবানি বাবদ ব্যয়ের অর্থ সৌদি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা সৌদি সরকার অনুমোদিত এ ধরনের অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের অতিরিক্ত ৮১০ রিয়াল সমপরিমাণ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সঙ্গে নিতে হবে। এদিকে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ হাব নির্দিষ্ট করে থাকে। এ প্যাকেজটি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। এ প্যাকেজের জন্য শুধু একটি বেসিক ব্যবস্থাপনা হয়েছে। নির্বাহী কমিটিতে এটি অনুমোদিত হয়েছে যে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ প্যাকেজ হাব ঘোষণা করবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বেশির ভাগ হজযাত্রী হজে যান। এ বছর যাবেন ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন। তারা কোন প্যাকেজে যাবেন, তাদের কী সেবা করা হবে এবং দাম কেমন হবে, তা আমরা বৃহস্পতিবার জানাব। তার আগে আমরা সৌদি অংশের খরচের হিসাবটি জানার চেষ্টা করব।

 

 

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর