শিরোনাম
রবিবার, ২২ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

সিভিল কেস বেগুন খেতের মতো, পরিবর্তন দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিভিল কেস বেগুন খেতের মতো, পরিবর্তন দরকার

মামলার জট কমিয়ে আনতে সময় চেয়ে আবেদন না করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বলা হতো সিভিল কেস বেগুন খেতের মতো। এটা প্রচলিত ছিল। আমি তো শুনে শুনে বড় হয়েছি। এই জিনিসটা পরিবর্তন করতে হবে।

গতকাল দুপুরে মামলাজট নিরসনে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের আট বিভাগের আটজন জিপি ও আটজন পিপি মামলাজট নিরসনের বিষয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় জিপি-পিপিগণ মামলাজট নিরসনে আদালতে সময়মতো সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আরও বিচারক নিয়োগ, আদালত সংখ্যা বাড়ানো, সময়মতো সমন জারি ও তার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, দেওয়ানি কার্যবিধির কিছু ধারা সংশোধন, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডাক্তারের আদালতে সময়মতো উপস্থিতি, বার ও বেঞ্চ এর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সিপিসি যখন করা হয়েছিল তখন প্রযুক্তির এত উন্নয়ন হয়নি। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখান থেকে আমেরিকায় খবর পাঠাতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড। পৃথিবী যখন এখানে চলে গেছে, আমার মনে হয় বলা আছে অমুকটার জন্য ৪৫ দিন সময় দিতে হবে, অমুকটার জন্য ৬০ দিন সময় দিতে হবে এগুলোর আর প্রয়োজন নেই। মামলার জট কমাতে আদালতের খরচ বাড়ানো হবে। খরচ বাড়ালে মানুষ চিন্তা করবে আজ যদি আমি তারিখ নেই তাহলে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগবে। তখন মানুষ আর সময় নিতে চেষ্টা করবে না। এটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আইন করার পরে কিছু মিসইউজ এবং অ্যাবিউজ যে হয়নি তা তো নয়। আগে যে অপরাধ হতো শারীরিকভাবে, এখন সেটা হয় ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এই অপরাধের বিচার করতে তো আইন লাগবে। তবে কারও প্রতি যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য আমরা আগে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা বা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে যেন অপব্যবহার না হয় সেজন্য পাবলিক প্রসিকিউটরদের (পিপি) সচেতন থাকতে হবে। এক্ষেত্রে মামলা গ্রহণের মতো প্রাথমিক উপাদান না থাকলে আপনারা আদালতকে সেই মতামত দেবেন। এ ছাড়া যেখানে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের (গ্রেফতারি পরোয়ানা) পরিবর্তে সমন দেওয়াই যথেষ্ট সেখানে পাবলিক প্রসিকিউটররা তাদের সুচিন্তিত মতামত দেবেন।

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর