শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সদর দফতরে বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভায় এ অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির সব খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক জনশক্তি নিতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং আশা করি এটি দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে আরও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার পথ প্রশস্ত করবে। প্রয়োজন অনুপাতে এলএনজি আমদানির বিষয়ে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মালয়েশিয়া আমাদের এফডিআইর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস দেশ। ২০২২ সালের  সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানত টেলিকম খাতে মালয়েশিয়া থেকে এফডিআই স্টক দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশ এফডিআইর জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী ইব দাতো ইন্দার মোহা শর আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আরও অধিক পরিমাণে এলএনজি আমদানি ও জনশক্তি আমদানির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাইজিং স্টার হিসেবে অবহিত করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এই সম্পর্ক দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ভুটানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ঊর্ধ্বগামী বাণিজ্য বিদ্যমান। ২০২০-২১ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৩০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে আমদানি ছিল ১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের অর্ধ মিলিয়ন (৫ লাখ ৫৯ হাজার ২০০) ডোজ দেওয়ায় অর্থমন্ত্রী মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

 

সর্বশেষ খবর