শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০১৯ ২২:২২

চক্রাকার ফেসিয়ালে ঝলমলে ত্বক

ফেসিয়াল এবং ফেস ট্রিটমেন্ট দুটি আলাদা বিষয়। যা সেরে নেওয়ার পর থেকেই মিলবে সুফল। কিন্তু কোন বয়সে কেমন ফেসিয়াল এবং তার ফল কয়দিন টিকে থাকবে তা নিয়েই এ ফিচার।

চক্রাকার ফেসিয়ালে ঝলমলে ত্বক
মডেল : নূপুর সরকার

ত্বক প্রতিদিনই পুনর্জীবিত হয়ে থাকে। একটু সহজ করে বললে প্রতিদিনই আমাদের ত্বকে মৃত কোষের আস্তর জন্মে। পরবর্তীতে তা ঝরে গিয়ে আবার নতুন কোষ জন্মে। অনেকেরই অজানা যে, প্রতি ২৭ দিন পর আমাদের ত্বকের মৃতকোষ ঝরতে শুরু করে। আর তখন যদি সেগুলো পরিষ্কার না করা হয়, বাধে বিপত্তি। তখন ত্বক হয়ে পড়ে প্রাণহীন, অনুজ্জ্বল। তাই নিয়ম মেনে পারলারে কিংবা ঘরোয়া ফেসিয়াল করানোর প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে বয়স এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করানো উচিত। জেনে নিন তার বিস্তারিত।

 

বয়সভেদে ফেসিয়াল

যাদের বয়স বারো থেকে কুড়ি তাদের ক্ষেত্রে ফেসিয়াল নয়। শুধু ফেস ক্লিনআপই যথেষ্ট। মনে রাখতে হবে ফেস ক্লিনআপ এবং ফেসিয়াল এক নয়। বারো থেকে কুড়ি বয়সে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ত্বকে দেখা দেয় ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস, ব্রণ এবং ডার্ক সার্কেল। এ ছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনেও স্কিনে অয়েল এবং ডার্কনেসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সীদের জন্য কেবল ক্লিনআপই বেস্ট সলিউশন। এতে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়। কুড়ি থেকে ত্রিশ বছর বয়সীদের মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করা উচিত। সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্কিনের ধরন বুঝে নিতে হবে। ফেসিয়াল করার পর মুখে বাড়তি উজ্জ্বলতা যোগ হয়। নরম, কোমল ভাবসহ অনুভূত হয় মসৃণতা। কারণ, ফেসিয়ালের ফলে ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষের স্তর সরে যায় এবং বেরিয়ে আসে ঝকঝকে নতুন ত্বক। ফেসিয়াল করানোর পর রোদে বের হওয়া উচিত নয়। তাই ফেসিয়াল করার জন্য বিকালের পর হলো আদর্শ সময়। কারণ তখন রোদের তাপ থাকে না। রাতে ঘুমানোর পর ত্বকও বিশ্রাম পায়। আবার যেদিন ফেসিয়াল করবেন সেদিন ফেসওয়াশও ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে স্কিনে সমস্যা হতে পারে। ফেসিয়াল করার পর অবশ্যই সানব্লক ব্যবহার করতে হবে। আর যাদের ত্রিশের বেশি বয়স তারা মাসে দুইবার করে ফেসিয়াল করতে পারেন। এ সময় থেকে এন্টি এজিং ফেসিয়াল ব্যবহার করতে পারেন।

 

কেমন হবে ফেসিয়াল ম্যাসাজ

ত্বক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই ফেসিয়াল করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কীভাবে ত্বক ম্যাসাজ করছেন ফেসিয়ালের ক্ষেত্রে সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ত্বক কখনোই জোরে ম্যাসাজ করতে নেই। অতিরিক্ত ম্যাসাজের ফলে ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে বার্ধক্য (ত্বক ঝুলে যাওয়া) দেখা দিতে পারে। 

 

ফেসিয়াল করানোর পরবর্তী সময়

ফেসিয়াল করানোর ৪৮ ঘণ্টা পর ত্বকের অভ্যন্তরে কাজ করতে শুরু করে। ফলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ত্বক হয়ে ওঠে আরও বেশি আর্দ্র। ফেসিয়ালের ২৮ দিন পর ত্বককোষগুলোর পুনর্জীবিত হয়ে ওঠার সময় হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই কোষগুলো সবচেয়ে সুন্দর অবস্থায় থাকে। ফেসিয়াল করানোর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর ত্বক আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। অর্থাৎ মৃত কোষ জমতে শুরু করে। তখন ত্বকে দূষণ, ময়লা হয়। তখন ফেসিয়াল করালে মৃত কোষ সরিয়ে ত্বক ফিরে পায় হারানো উজ্জ্বলতা। তাই ফেসিয়াল করানোর পর তাড়াহুড়া নয়।

শোভন সাহা

কসমোলজিস্ট

শোভন মেকওভার


আপনার মন্তব্য