Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৪

কেয়ার সব সময়

অপরূপ সৌন্দর্যের প্রথম শর্তই হলো পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত খাওয়া-দাওয়া। আর এই রুটিনের সামান্য পরিবর্তনে প্রভাব পড়বে ত্বক এবং চুলে।

কেয়ার সব সময়

সময় এখন বর্ষার দখলে। সময়-অসময়ের বৃষ্টিপাত জানান দিচ্ছে বর্ষার গল্পকথা। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি, আর গরম, আর্দ্রতা ও ভাপসা আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে ত্বক এবং চুলে। আর বর্ষা বলেই হয়তো ত্বক হয় তৈলাক্ত। আর্দ্র হারিয়ে দেখায় নি®প্রাণ। বর্ষাকাল তাই ত্বকের জন্য সুবিধার নয়।

 

সময়টা রোদ-বাদলের। হঠাৎ বৃষ্টি গরমে আনে স্বস্তির আমেজ। কিন্তু উল্টোদিকে অস্বস্তিও রয়েছে। সময়-অসময়ে বৃষ্টি স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো। একইভাবে কড়া রোদেও ভয় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে বের না হওয়াই শ্রেয়। তাতে ত্বক ক্লান্ত হয়ে যায়। ত্বক ঝলসে গিয়ে উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় ত্বক কালচে দেখায়। কিন্তু তাই বলে তো ঘরে বসে থাকা যায় না। বর্ষাকালে নিজের ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে নিয়মিত ক্লেনজিং এবং টোনিং করা উচিত। এ সময় মাইল্ড ফেসওয়াশ বা বাড়িতে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন ক্লিন্সিংয়ের জন্য। এবং যে কোনো ভালো মানের টোনার ব্যবহার করুন। 

 

বর্ষা মানেই বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া। তাই ঘাম, তেল সারা দিন ধরে মুখে জমতেই থাকে। কাজ শেষে বাসায় ফিরে গোসল সেরে নিন। তবে বৃষ্টির দিনে একবার গোসল করে নিলেই যথেষ্ট। গোসল করতে না চাইলে ঘরে ফিরে হাত ও পা ধুয়ে ফেলুন। আর বর্ষাকালে ওই অতিরিক্ত ঘাম, তেল থেকে হওয়া ব্রণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে রোজ অন্তত তিনবার মুখ ধুয়ে নিন। এক্ষেত্রে পছন্দের  ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে মুখে স্ক্রাব করতে পারেন। এক্ষেত্রে দুই টেবিল-চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু, লেবুর রস এবং কাজুবাদাম বাটা মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

 

বর্ষার মৌসুমে সাবানের পরিবর্তে ক্লিনজার ব্যবহার করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার পানি সবচেয়ে ভালো ক্লিনজার। বেশি পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বক হলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই বাইরে থেকে এসে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করেন, কিন্তু তাদের ত্বকে সমস্যা লেগেই থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষের মুখ পরিষ্কারের আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস নেই বলেই এমনটা হয়। নিয়ম হচ্ছে, প্রথমেই সাবান বা ক্লিনজার দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হয়। কারণ, হাত থেকেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়।

 

হঠাৎ বৃষ্টি আর হঠাৎ কড়া রোদের ঝলকানি হয়তো আপনার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, বছরের সারাটা সময়েই ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। শীত,  গ্রীষ্ম, বর্ষা; কোনো সময়ই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত নয়। রোদের ক্ষতিকারক সূর্যরশ্মি কম সময় থাকলেও তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। একটি বিষয়ে সবার খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার। তৈলাক্ত ত্বকে পানির মাত্রা বেশি থাকে। রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এসপিএফ ৩০ মাত্রার অধিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

 

এমন আবহাওয়ার প্রভাব শুধু ত্বকে নয়, প্রভাব পড়ে চুলেও। অতিমাত্রায় শুষ্ক হয়ে যায়, পড়তে শুরু করে, খুশকিও দেখা দেয়। তাই চুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি এই রোদ-বৃষ্টির বর্ষায় নিজেকে একটু নতুনভাবে দেখতে চাইলে হেয়ার স্টাইলে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবহার করতে হবে হেয়ারপ্যাক। একটি ডিমের সঙ্গে (চুল রুক্ষ হলে কুসুম এবং তৈলাক্ত হলে সাদা অংশ), এক কাপ দুধ, দুই টেবিল-চামচ অলিভ অয়েল এবং একটি লেবুর রস মেশাতে হবে। এবার মিশ্রণটি ঘষে ঘষে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখতে হবে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা। তারপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে। চুলের সাধারণ সমস্যাগুলো কাটাতে এটি দারুণ কার্যকর। তবে প্যাকটি লাগানোর আগে অবশ্যই চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার করে নিন।

 

লেখা : ফ্রাইডে ডেস্ক


আপনার মন্তব্য