১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:১৯

হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী করণীয়

অধ্যাপক ডা. এএইচএম ওয়ালিউল ইসলাম

হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী করণীয়

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকাল মৃত্যুঝুঁকি অন্য সব রোগের মধ্যে একটা অন্যতম কারণ। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সরকারি বা পাবলিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বা প্রাইভেট হাসপাতালসমূহে উন্নত ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। করোনারি অ্যানজিওগ্রামের দ্বারা রক্তনালির ব্লক নির্ণয় ও রিং বা স্টেন্টিং ও বাইপাস সার্জারির দ্বারা চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও জীবনধারার পরিবর্তন, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসা-পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা বা পুনঃহার্ট অ্যাটাক হতে রক্ষা করে থাকে।

একটা ব্যাপারে গুরুত্ব না দিয়ে পারা যায় না। তা হলো চিকিৎসা-পরবর্তী স্ত্রী সহবাস/ দৈহিক মিলন। অনেক রোগীর এ ব্যাপারে সম্যক কোনো জ্ঞ্যান থাকে না। চিকিৎসকের উচিত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া কি করা উচিত। অনেকাংশে রোগী ও ডাক্তার উভয়ে এ ব্যাপারে ইতস্তত করেন। স্ত্রী সহবাস/ দৈহিক মিলন সুস্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তা অনস্বীকার্য।

AHA বা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের কিছু নির্ধারিত গাইড লাইন অনুসারে রোগী ও তার পার্টনার বা দাম্পত্য সঙ্গী-কে খোলামেলা আলোচনা ও স্বাস্থ্যসম্মত safety measures-এ সহবাস করার পক্ষে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। একজন সুস্থ দম্পতির যৌন মিলনের বা সহবাসের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ফ্লাইটস বা two flight of stairs উঠা অর্থাৎ যা কিনা এক্সসারসাইজ টেস্ট বা TMT i 3-5 Mets-এর সমান।

দৈহিক মিলনের সময় Orgasm এর মুহূর্তে হৃদস্পন্দনের গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যায় যা ১০-১৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। শতকরা ১% রোগী যাদের কিনা হার্ট অ্যাটাক হয়নি তাদের হতে পারে। শতকরা ০.৬-১.৭% রোগীর দৈহিক মিলনের সময় মৃত্যু হতে পারে। এর মধ্যে ৮২-৯৩% পুরুষ এবং ৭৫% রোগীদের যারা সহবাস করেন তার চেয়ে অধিকতর কম বয়সী মহিলা বা তরুণীর সঙ্গে বিশেষ করে খাবার পর বা মদ্যপানের পর।

সাধারণত হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী স্টেন্টিং বা বাইপাস সার্জারির ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সহবাস হতে বিরত থাকাই শ্রেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সম্ভাব্য ক্ষেত্রে এক্সারসাইজ টেস্ট বা TMT এর প্রথম ১-২ ধাপ মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করা ও তৎসঙ্গে যদি বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট না থাকে তাহলে পুনঃস্বল্পকালীন দৈহিক মিলন করতে পারেন।

যাদের পুনঃ বুকের ব্যথা বা Angina, শ্বাসকষ্ট বা heart failure, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন বা Arrhythmia হয় তাদের সহবাস হতে বিরত থাকা শ্রেয় যতক্ষণ উপসর্গের উন্নতি পরিলক্ষিত না হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম বা হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করা বাঞ্চনীয়। এ ব্যাপারে cardiac rehabilitation খুবই জরুরি। উল্লেখ্য, হার্ট অ্যাটাকের পর ৩-৬ সপ্তাহ, CABG-এর ৪-৬ সপ্তাহ সহবাসে বিরত থাকা ও চিকিৎসকের পরামর্শমাফিক চলা এবং হার্ট ফেইলিওর (এর কারণে ফুসফুসে পানি আসা) ও  beta blocker-এর কারণে অল্পে কাহিল বা Fatigueness হতে পারে যা পর্যাপ্ত সহায়ক নাও হতে পারে দৈহিক মিলনে।

কিছু ওষুধ যথা beta blocker, nitrate, Frusemide, statin শারীরিক শক্তি কমিয়ে আনতে পারে যা কিনা স্ত্রী সহবাসের জন্য বড় একটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এফডিএ-এর নির্দেশ মতে, যৌন উত্তেজক sildenafil, tadalafil-এর সঙ্গে সেবন নিষিদ্ধ, এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়াতে পারে।

মনের চাহিদার সঙ্গে শারীরিক সুস্থতা কাম্য। আর একজন হৃদরোগী পুরুষ/মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে তাদের পার্টনারের মানসিক সাপোর্ট খুবই কাম্য। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে না উঠা পর্যন্ত ধৈর্য ধরতেই হবে। প্রয়োজনে একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, সিনেমা বা নাটক দেখা, একে অন্যের প্রতি সহনশীল হওয়া, শারীরিক ফিটনেস বাড়ানো তথা দুজনেরই আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া বাঞ্চনীয়। মনে রাখা দরকার সহবাস বা দৈহিক মিলনই সবকিছু নয়। এ অবস্থা সাময়িক। মন ও শরীর একে অপরের পরিপূরক। স্বামী-স্ত্রী যে মধুর সম্পর্ক তার আরও মধুরতম করতে পারে দুজনের প্রতি ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহমর্মিতা।

লেখক: ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর