ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিংহ রাওয়াত দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক সংকট এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ থামাতে না পারায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিংহ রাওয়াত দাবি করেছেন, ‘করোনার কারণে এখন উপনির্বাচন সম্ভব নয়। সাংবিধানিক সঙ্কট হতে পারে, সে কথা মাথায় রেখে নৈতিক কারণে ইস্তফা দিয়েছি।’
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যে শুক্রবার রাতের দিকে রাজভবনে যান তীরথ। সেখানে রাজ্যপাল বেবি রানি মৌর্যের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন তিনি। গত ১০ মার্চ ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের পরিবর্তে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন তীরথ।
আজ শনিবার দুপুর তিনটায় বিজেপির সদর দফতরে পরিষদীয় দলের বৈঠকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক করা হবে।
এদিকে, তার পদত্যাগের পরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার এক বিজেপি নেতা বলেছেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াই উচিত নয়। কিন্তু মমতা হয়েছেন। ভোট হওয়া যেহেতু সম্ভব নয়, তাই তীরথকে সরিয়ে অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার কথা ভাবছে বিজেপি। মমতারও উচিত নৈতিকতার কারণে আপাতত সরে যাওয়া।’’
যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই চাপের কথা মানতে নারাজ। তাদের মতে উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি মোটেই এক নয়। এ ব্যাপারে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেছেন, ‘দুই রাজ্যের পরিস্থিতির তুলনাই চলে না। উত্তরাখণ্ডে আগামী বছরের গোড়াতেই ভোট। তাই এত কম সময়ের জন্য এই করোনা আবহে উপ-নির্বাচন করায় অনীহা থাকতে পারে। কিন্তু সদ্য মে-তেই মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। তাই সেখানে উপ-নির্বাচন না করার যুক্তি নেই।’
বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর