শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৯:৩২
প্রিন্ট করুন printer

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন

এবারও ইইউ’র সেই চার সমস্যা

অনলাইন ডেস্ক

এবারও ইইউ’র সেই চার সমস্যা
এবারও ইইউ’র সেই চার সমস্যা
Google News

প্রতি বছর ইইউ’র সার্বিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে ইউরোপীয় কমিশন। এ উপলক্ষে পার্লামেন্টে ভাষণ দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট। ডয়চে ভেলের বার্নড রিগার্ট মনে করেন, ২০২০ সালের বিষয়গুলোই ঘুরেফিরে আসবে এ বছর।

ইউরোপীয় কমিশনের করা এক জরিপ বলছে, এ মুহূর্তে জোটভুক্ত দেশগুলোর সাধারণ মানুষের কাছে যে পাঁচটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হলো, জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড মহামারী, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সামাজিক অসাম্য। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ইউরোপীয় সংসদে যে ভাষণ দেবেন, সেখানে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবারের ভাষণে তার মধ্যে চারটি বিষয় খুব গুরুত্ব পাবে।

মহামারী

ইউরোপে এখন পর্যাপ্ত কোভিড টিকা রয়েছে। তবে টিকা দেওয়ার হার এখনো খুব কম। ৭০ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ককে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যপূরণ হলেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা মাথায় রাখলে এই সাফল্যকে যথেষ্ট বলা যাবে না। টিকা দেওয়ার হার অবশ্য ইউরোপের একেক দেশে একেক রকম, কোনও কোনও দেশে মাত্র ২০ ভাগ মানুষ টিকা পেয়েছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি মাল্টায় সর্বোচ্চ ৯০ ভাগ মানুষ টিকা পেয়ে গেছে- এটাও সত্যি।

ইইউ’র স্বাস্থ্য ইবিষয়ক কমিশনার স্টেলা কিরিয়াকিডেস জানান, টিকা দেওয়ায় একটি সমন্বিত প্রয়াস চালানো যে দরকার তা ইইউ-ও মনে করে, তাই এ লক্ষ্যে ফন ডেয়ার লাইয়েন ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান হেল্থ ইমার্জেন্সি রেসপন্স (এইচইআরএ) নামের একটি এজেন্সি উদ্বোধন করেছেন।

অর্থনীতি

মহামারী ইইউ অঞ্চলের অর্তনীতিতে অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে। ফন ডেয়ার লাইয়েন অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথোপযুক্ত পুনর্নিমাণ পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর জন্য ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো (৮৮৬ বিলিয়ন ডলার)-এর বাজেট ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন

অর্থনীতি পুনর্নিমাণ বাজেটের বড় একটা অংশ ‘সবুজ' বিনিয়োগে কাজে লাগাতে চায় ইইউ কমিশন৷ কমিশন চায়, ইইউর ‘সবুজ চুক্তি’ ২০৫০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই ইউরোপকে সবচেয়ে জলবায়ু-নিরপেক্ষ মহাদেশে পরিণত করবে। 

সংহতি

ইইউ-এর ভিতরে কিছু ক্ষেত্রে বিরোধটা খুব স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ বিশেষ করে পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরি সেসব দেশে ইইউ কমিশন এবং ইউরোপীয় আদালতের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের বিরোধিতা করছে ক্রমাগতভাবে। ইইউ’র নতুন সদস্য দেশগুলোতেও এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া অভিবাসন প্রসঙ্গেও ঐকমত্য আসেনি। অথচ এ অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাড়ছে, আগামীতে তার সঙ্গে ব্যাপক হারে যোগ দেবেন আফগানিস্তানের অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

অথচ কমিশন আগেই জোটভুক্ত সব দেশের মধ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশী ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা ছেড়ে দিয়ে সীমান্ত বন্ধ করে অভিবাসনপ্রত্যাশীর আগমন নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

বুধবারের ভাষণে ফন ডেয়ার লাইয়েন কী বলেন আর এসব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার কোনও পরিকল্পনা ঘোষণা করেন কিনা সেটাই এখন দেখার।

বিডি প্রতিদিন/কালাম

এই বিভাগের আরও খবর