২৮ মার্চ, ২০২২ ১০:৪৮
আল-জাজিরার প্রতিবেদন

এখন নিরপেক্ষতা প্রশ্নে যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে: বিশ্লেষণ

অনলাইন ডেস্ক

এখন নিরপেক্ষতা প্রশ্নে যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে: বিশ্লেষণ

ইউক্রেনের নিরপেক্ষ মর্যাদা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। 

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় এই নিরপেক্ষ অবস্থান।

জেলেনস্কি বলেছেন, “শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। তবে তা গণভোটের মাধ্যমে ঠিক হতে হবে এবং তৃতীয় কোনও পক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “রাশিয়ার সাথে পরবর্তী দফা আলোচনায় তার অগ্রাধিকার হবে সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা। কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা অপরিহার্য।”

“অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য হল শান্তি এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের দেশে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা,” যোগ করেন তিনি।

এদিকে, সোমবার তুরস্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। তুরস্কের কোথায় এই বৈঠকে তা সুনির্দিষ্ট করে এখনও জানানো হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে এখন নিরপেক্ষতা প্রশ্নে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক জাচারি পাইকিন। তিনি সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি স্টাডিজের একজন গবেষক।

জাচারি পাইকিন বলেন, “এখন নিরপেক্ষতা মানে ন্যাটোতে যোগদান করতে পারা বা না পারা, বনাম ইইউতে যোগ দিতে পারা বা না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।”

“রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পিছনে মূল বক্তব্য ছিল ন্যাটোতে ইউক্রেনের মর্যাদা কী হবে তা নিয়ে। রাশিয়া সামরিক অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে আলোচনার সময় কমবেশি স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষতার কথা বলেছিল ন্যাটোতে যোগদান করা যাবে না। তবে ইইউতে সদস্যপদের বিষয়টিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের যোগদান রাশিয়ার জন্য কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ ইইউ পশ্চিমা রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা পরিচালিত। অন্যদিকে, রাশিয়ার দাবি ইউক্রেন গঠিত হয়েছে রাশিয়ান বিশ্বের অংশ হিসেবে। ইইউ হল নামমাত্র একটি সাধারণ বৈদেশিক এবং নিরাপত্তা নীতি। মস্কোর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অনেকাংশে নিরপেক্ষতার ধারণার বিরুদ্ধে চলে যাবে।”

প্রসঙ্গত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে এই অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে সোমবার ৩৩তম দিনে গড়িয়েছে রুশ অভিযান। বিগত ৩২ দিনে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। সূত্র: আল-জাজিরা

বিডি প্রতিদিন/কালাম

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর