শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪২

পাকিস্তানকে চাপে রাখার প্রক্রিয়া শুরু ভারতের

পাকিস্তানকে চাপে রাখার  প্রক্রিয়া শুরু ভারতের

কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারত। এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখতে নানা প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ভারত। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সব ধরনের পণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এক টুইটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি বলেন, ‘পুলওয়ামা ঘটনার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’র (এমএফএন) মর্যাদা প্রত্যাহার করেছে ভারত। প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান থেকে ভারতে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের শুল্ক ২০০ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে।’ এর আগে ভারত সরকার পাকিস্তানকে একঘরে করে রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে। এজন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে তারা। দুই দেশের মধ্যে বৈষম্যহীন বাণিজ্যের জন্য বাণিজ্য অংশীদারদের এমএফএন সুবিধা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানকে এই মর্যাদা দিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট চলার সময় এই সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেছে ভারত সরকার। কিন্তু এনডিটিভি বলছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি হওয়ায় এ পদক্ষেপ অনেকটা প্রতীকী। ভারত পাকিস্তান থেকে প্রধানত ফল, সিমেন্ট, চামড়া, রাসায়নিক ও মসলা আমদানি করে এবং দেশটিতে সুতিবস্ত্র, রং, রাসায়নিক, সবজি, লোহা ও ইস্পাত রপ্তানি করে থাকে। বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কে ভারতীয় আধা-সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ। এ হামলার ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৪ জন সদস্য নিহত হন।

এদিকে ভারতের চা রপ্তানি কমিটি জানিয়েছে, হামলার পর তাদের ক্ষতি মেনে নিয়ে পাকিস্তানে চা রপ্তানি বন্ধ করার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। তারা বলছে, তাদের কাছে দেশের স্বার্থ আগে এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। ইসলামাবাদকে ‘একেবারে একঘরে’ করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতেও শুরু করেছে ভারত।

গুপ্তচর ইস্যুতে আইনি লড়াই শুরু হচ্ছে : ‘গুপ্তচর’ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান আইনি লড়াই। এ আইনি লড়াই এমন এক সময় শুরু হচ্ছে, যখন কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলার ৪৪ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হওয়ার দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ২০১৬ সালে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গ্রেফতার হন ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণ সুধির যাদব। ২০১৭ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে ‘গুপ্তচরবৃত্তি, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকা  এবং সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগে মৃত্যুদ  দেয়। তবে ভারতের দাবি, যাদব গুপ্তচর নন। তাকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে নয়াদিল্লি যাদবকে দেওয়া দণ্ড বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।

 ভারতের অভিযোগ, ইসলামাবাদ ভিয়েনা সনদ তো লঙ্ঘন করেছেই, একই সঙ্গে মানবাধিকারও লঙ্ঘন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে আইসিজে গঠন করা হয়।

ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত : পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সবুজ সংকেত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার বলা হয়েছে, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ভারতের অধিকারকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান অজিত দোভালের সঙ্গে দুবার টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন। এ সময় তিনি ভারতের প্রতি ওই সমর্থন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে একটি বিবৃতিতে জন বল্টন জোরালোভাবে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই মোহাম্মদকে দমন করতে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতি। বলা হয়েছে, পুলওয়ামা হামলায় ওই গ্রুপটি জড়িত।


আপনার মন্তব্য