মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা
ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি পালিত

২৫ বছরের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের অঙ্গীকার

কলকাতা প্রতিনিধি

২৫ বছরের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের অঙ্গীকার

 স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি পালন করল ভারত। এ উপলক্ষ্যে দেশজুড়েই পালিত হচ্ছে আজাদির অমৃত মহোৎসব, স্বভাবতই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিতে এদিন সকালেই দিল্লির লালকেল্লায় পৌঁছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মোদি। পরে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে তিনি আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে (স্বাধীনতা অর্জনের শতবর্ষ) স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পাঁচটি শপথ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ২৫ বছরে ভারত নিশ্চয়ই উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এজন্য পাঁচটি সংকল্প নিতে হবে। এগুলো হলো, বৃহত্তর সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, দাসত্বের সব চিহ্ন থেকে মুক্তি, উত্তরাধিকার নিয়ে গর্ব বোধ করা, ঐক্যের শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীসহ দেশের সব নাগরিকের কর্তব্য পালন।’

দেশের যুব সম্প্রদায়কে তাদের জীবনের আগামী ২৫ বছর দেশের উন্নয়নে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবতার উন্নয়নে কাজ করব। যখন কোনো স্বপ্ন বড় হয়, তখন কঠোর পরিশ্রম করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতিশ্রুতি ও সংকল্প দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে হবে।’ সেই সঙ্গে নারী শক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন মোদি।

লালকেল্লায় প্রায় ৮৩ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র- বর্তমানে ভারত এই দুই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান স্বজনপ্রীতির শিকলে আবদ্ধ। ভাই-ভাতিজাবাদ, পরিবারতন্ত্র আমাদের অনেক সংস্থায় জড়িয়ে পড়েছে। দেশে আর চাচা-ভাতিজাবাদ চলবে না। এটা শুধু রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটা দুর্নীতিকেও উৎসাহিত করে। আমাদের উচিত এ পরিবারতন্ত্র থেকে দেশকে মুক্ত করা, কারণ এটা দেশের অগ্রগতিকে বাধাপ্রাপ্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উঁই পোকার মতো দুর্নীতি গোটা দেশকে ফাঁপা করে দিয়েছে এবং আমাদের এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। অতীতে যারা দেশকে লুট করেছে, তারা এখন তাদের পাপের খেসারত দিচ্ছে। তাদের সেই অসৎ পথে উপার্জিত বিভিন্ন সুবিধা আমরা বাজেয়াপ্ত করছি।’

এদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সরকারকে নিশানা করেছেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডাই হলো ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী বা দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত জওহরলাল নেহেরুর মতো নেতাদের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করা। তাঁর আরও অভিযোগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারতীয় বাহিনীর যে আত্মত্যাগ, তাকেও খাটো করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

সর্বশেষ খবর