শিরোনাম
২৯ জুন, ২০২২ ১৬:২১

অর্থপাচার মামলায় হাজিরা দিলেন পিকে হালদারের সহযোগী স্বপন মৈত্র’র স্ত্রী

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

অর্থপাচার মামলায় হাজিরা দিলেন পিকে হালদারের সহযোগী স্বপন মৈত্র’র স্ত্রী

স্বপন মৈত্র’র স্ত্রী পূর্ণিমা মৈত্র।

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট’র (ইডি) তদন্তের মুখোমুখি হতে কলকাতায় ইডির কার্যালয়ে বুধবার হাজিরা দিয়েছেন পিকে হালদারের অন্যতম সহযোগী স্বপন মৈত্র’র স্ত্রী পূর্ণিমা মৈত্র।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভারতের ইডি’র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মূল অভিযুক্ত পিকে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে শিব শঙ্কর হালদার। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিকের অন্যতম সহযোগী স্বপন মৈত্র ওরফে স্বপন মিস্ত্রিসহ মোট ছয়জনকে।

এবার সেই ইডির নোটিশ পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে হাজিরা দিতে ইডির আঞ্চলিক কার্যালয় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে আসলেন স্বপন মৈত্রর স্ত্রী পূর্ণিমা মৈত্র।

তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর ৫২৭/৮ নম্বর ঠিকানার বাসিন্দা স্বপন মৈত্র এবং পূর্ণিমা মৈত্রের তালাবদ্ধ বাড়ির বাইরের দেয়ালে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে যায় ইডি।

ওই নোটিশে পূর্ণিমা মৈত্রের উদ্দেশে বলা হয়, আগামী ২৯ জুন সকাল ১০.৩০ মিনিটে ইডির আঞ্চলিক দপ্তর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে যেন তিনি দেখা করেন। সেসময় তার পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাংকের পাস বই, ইনকাম ট্যাক্স সম্পর্কিত নথি, বারাসাতে থাকা তাদের একটি ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার নামে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা যাবতীয় সম্পত্তির হিসাব সম্পর্কিত নথি নিয়ে পূর্ণিমা যেন দেখা করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেলা এগারোটা নাগাদ কার্যালয়ে আসেন বাংলাদেশের দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি পূর্ণিমা মৈত্র। সাথে নিয়ে আসেন একাধিক নথি, কাগজপত্র। পূর্ণিমার সাথে ইডির কার্যালয়ে দেখা যায় তার আইনজীবী আলী হায়দারকেও।

এদিন ইডির দপ্তরের ঢোকার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পূর্ণিমা প্রথমে জানান, ‘কিছু বলার নেই’। এরপরে তার অভিযোগ ‘এই গোটা ঘটনার পেছনেও চক্রান্ত আছে।’ নিজেকে একজন ভারতীয় নাগরিক বলেও দাবি করেন পূর্ণিমা। যদিও তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুদকের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি তিনি।

গত ১৩, ১৪ মে অশোকনগরসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। এরপর ১৪ মে পিকে হালদারের সাথেই গ্রেফতার করা হয় তার ভাই প্রাণেশ হালদার, স্বপন মিস্ত্রি ওরফে স্বপন মৈত্র, উত্তম মিস্ত্রি ওরফে উত্তম মৈত্র, ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার এবং আমানা সুলতানা ওরফে শর্মী হালদারকে। ইতিমধ্যেই পিকে হালদারসহ গ্রেফতার ছয়জনের বিরুদ্ধেই প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) বা অর্থপাচার সম্পর্কিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে অর্থপাচারের ক্ষেত্রে পূর্ণিমার আদৌ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, থাকলেও তা কোন পর্যায়ের-সে সবই খতিয়ে দেখছিল ইডির কর্মকর্তারা। কিন্তু এরই মধ্যে স্বপনের পরিবারের বাকি সদস্যরা অশোকনগরের বাড়ি তালাবদ্ধ করে অন্যত্র চলে গেছে। এমনও অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারীদের কোনোরকম সহযোগিতা তারা করছেন না। এরপরই তাকে নোটিশ পাঠায় ইডি। 

ইতিমধ্যেই আদালতের পক্ষে কয়েক দফায় ইডি রিমান্ড এবং জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর পিকে হালদারসহ ছয় অভিযুক্তের প্রত্যেকেই কারাগারে বন্দী রয়েছেন। অভিযুক্তদের জেরা করে ইতিমধ্যেই নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রচুর সম্পত্তির হদিস পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের একাধিক শহরে। এখনো পর্যন্ত ৮৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস পেয়েছে ইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে আগামী ৫ জুলাই অভিযুক্তদের ফের কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তোলা হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর