Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৫

ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর জন্য তাজমহল

আবদুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর জন্য তাজমহল

মুঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে যেমন নির্মাণ করেছিলেন বিখ্যাত তাজমহল, তেমনি ঠাকুরগাঁওয়ের একজন চিকিৎসক তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তৈরি করেছেন ‘মোহিনী তাজ’। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখাঁনগর ইউনিয়নের চতুরাখোর গ্রামের মাধবীকুঞ্জে দৃষ্টিনন্দন এ ‘মোহিনী তাজ’ ভবন নির্মাণ করেন চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল। আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনারের ভূমিকা পালন করেন ফিরোজ নিজেই। নিজের স্বপ্ন, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্ত্রীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসাকে উৎসাহ ও সাহস হিসেবে নিয়েই মোহিনী তাজ নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল শুধু একজন চিকিৎসকই নয়, তিনি কবি, আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনারও বটে। ইতিমধ্যে তিনি রচনা করেছেন ‘স্বপ্নের প্রাবন্ধিক কাব্য’ ও ‘চিঠিহীন খাম’ নামের দুটি কবিতার বই। গত বছর ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে মোহিনী তাজ। মোহিনী তাজের মালিক ফিরোজ জামান জুয়েল ও তার স্ত্রী জেসমিন রহিম পেশায় চিকিৎসক। মোহিনী তাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘‘মোহিনী শব্দের অর্থ আকর্ষণীয়, মোহমীয়, আবেদনপূর্ণ ও মমতাময়ী। আর তাজ অর্থ সেরা, শীর্ষতম বা সর্বগুণে গুণান্বিত। মোহিনী তাজ আমি উৎসর্গ করেছি আমার প্রিয়তম স্ত্রী জেসমিন রহিমকে।

সেই সঙ্গে আমার পরিবারের নারীদের, যেমন আমার মা, বোন ও অন্য নারীদের। তাই সার্বিক অর্থে সমগ্র নারীকুলের প্রতি সম্মান জানাতে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘মোহিনী তাজ’।’’ মোহিনী তাজ দূর থেকে দেখে মনে হবে তিনতলা বাড়ি। কিন্তু চিকিৎসক জুয়েলের কাছে এটা একটা ভাস্কর্যশিল্প। মোহিনী তাজের কারুকাজ ও ডিজাইনের মাধ্যমে জুয়েল তুলে ধরেছেন তার জীবনের ইতিহাস, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময়, জীবনদর্শন, পরিবার, দেশ ও মানুষের মননশীলতা। পৃথিবীর কিছু মৌলিক উপকরণ, যেমন জল-স্থল, সূর্য, চাঁদ, তারা, সাত আসমান ও রংধনু দিয়ে ভবনের শৈল্পিক কারুকাজ করা হয়েছে। মোহিনী তাজ নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক জুয়েল বলেন, ‘আমার বিয়ের ১২ বছর চলে গেলে আমি বাবা হতে না পারায় কোনো দিন বাবা হতে পারব কি না এ নিয়ে মানুষের মুখে চলছিল গুঞ্জন। একদিন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নাইট ডিউটি করার সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখলাম। তিন মাস পর আকস্মিকভাবে জানতে পারলাম আমি বাবা হচ্ছি। সেই দিন স্বপ্নে একটি ঘর দেখেছিলাম। স্বপ্নে দেখা ঘরটি হচ্ছে এই মোহিনী তাজ।’ মোহিনী তাজ মোট ১৩টি স্তরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি জানালা ও তার বাইরের কারুকাজ লাল, হলুদ, নীল রঙের সমন্বয় করা হয়েছে সূর্য, চাঁদ ও তারার আদলে। মোহিনী তাজের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চিকিৎসক জুয়েল এখানে ব্যবস্থা করেছেন কমিউনিটি সেন্টার, শিশুদের বিনোদন পার্ক ও পিকনিক স্পটের। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে থাকে মোহিনী তাজ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর