শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৩

বাড়ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা

মাহবুব মমতাজী

বাড়ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা

গত বছর পাঁচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৯ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ৯ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী আত্মঘাতী হয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ২০১০ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৬৫, ২০১৭ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৯৫ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেন্টাল হেলথকেয়ার সেল থাকার পরও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এটি মোকাবিলায় আরও অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত কার্যকরী কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মন মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত এখানেই অন্তত ১৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে গত দুই বছর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। সর্বশেষ গত বছরের ২২ নভেম্বর হুজাইফা রশিদ নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এর মাত্র ছয় দিন আগে গত ১৬ নভেম্বর আত্মহত্যা করেন বিশ^বিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী মেহের নিগার দানি। দানির বন্ধুদের ভাষ্যমতে, সে বিষণœতায় ভুগছিল। দুই দিন আগে ১৪ নভেম্বর গার্হস্থ্য অর্থনীতির লাইলা আনজুম ইভা নামে আরেক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১২ নভেম্বর আত্মহত্যা করেন বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা রেজা সিলভি। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। জানা যায়, ২০১৬ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। ২০০৫ এবং ২০১৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) দুজন, ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) একজন এবং ২০১৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের তাইফুর রহমান প্রতীক নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। এদিন বিকালে সিলেটের কাজলশাহ এলাকার একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সহপাঠীদের কারণে আত্মহত্যার প্রবণতাগুলো বাড়ছে। এক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে জীবন প্রবৃত্তি ও মরণ প্রবৃত্তিগুলো কাজ করে। যাতে  কেউ তার দুঃখ-কষ্টগুলো শেয়ার করতে পারে এমন ব্যবস্থা করতে হবে এবং কেউ যেন একাকী হয়ে না পড়ে এটা খেয়াল রাখতে হবে।


আপনার মন্তব্য