শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪০

সিগারেটের আগুন

মির্জা মেহেদী তমাল

সিগারেটের আগুন

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারির ঘটনা। বগুড়া জিলা স্কুলের গুদামঘরে লাগা আগুনে অষ্টম ও নবম শ্রেণির প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পাঠ্যবই ও খাতা পুড়ে যায়। গুদামে বৈদ্যুতিক কোনো লাইন ছিল না। তবে কীভাবে ঘটল এত বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা? অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মামলার তদন্তে নামে ফায়ার সার্ভিস। তদন্তে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। তারা জানতে পারে, গুদামকক্ষে আগুন লাগার পেছনে আর কিছু নয়, একটি সিগারেটের ফেলে দেওয়া শেষাংশের আগুনে পুড়েছে গুদামঘর। খোলা জানালা দিয়ে কেউ ভিতরে সিগারেট ফেলেছে। আর সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার পাঠ্যবই ও খাতা। ফায়ার সার্ভিসের কাছে রয়েছে এমন আরও ভয়াবহ তথ্য। তাদের ভাষ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১০৮টি ঘটনায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সিগারেটের আগুন থেকে। দুর্ঘটনা ও অগ্নিকা- নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সূত্র জানান, বাংলাদেশের সংগঠিত অগ্নিকান্ডের ঘটনার ১৫ শতাংশের কারণ সিগারেটের ফেলে দেওয়া শেষাংশের আগুন। আর এতে মোট ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৫ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাঙামাটির লংগদু উপেজলার মাইনীমখ বাজারসংলগ্ন কাঠের মিলে সিগারেটের আগুনে ভস্মীভূত হয় কোটি টাকার কাঠ। এর কয়েকদিন পর ২২ ডিসেম্বর কেশবপুরে দুটি পানবরজে আগুন লেগে ৩৩ শতাংশ জমির পান পুড়ে যায়। তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানতে পান এই আগুনের মূল কারণও ছোট্ট সিগারেট।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলেন, ‘আগুন লাগার জন্য এটা খুবই তুচ্ছ কারণ। সামান্য খামখেয়ালির কারণে আমরা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছি, দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করছি। সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

 আমাদের অবশ্যই সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে, যদি কেউ সিগারেট খাই অবশ্যই তাকে ফিল্টারটি ফেলে নিজ দায়িত্বে আগুন নেভাতে হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সিংহভাগ আগুন লাগার কারণ সচেতনতার অভাব। এ ছাড়া দিনে দিনে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার কারণে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে। তবে বাসাবাড়িতে অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া, নিম্নমানের তার ব্যবহার ইত্যাদি কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে। অনেক বাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পুরনো এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এগুলোর বিষয়ে সচেতন হলেই অগ্নিকান্ডের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।


আপনার মন্তব্য