শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মে, ২০১৯ ২৩:২৯

আমচাষিদের আশীর্বাদ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

আমচাষিদের আশীর্বাদ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী!

দাবদাহের কারণে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহজুড়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলোতে ব্যাপকভাবে রোগবালাইয়ের উপদ্রব শুরু হয়েছিল। বোঁটা শুকিয়ে আম ঝরে পড়ার     শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে সব শঙ্কা কেটে  গেছে। ওয়াকিবহালরা বলছেন, গতিপথ বদল করে গত শনিবার দুপুরে ফণী রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এড়িয়ে সিরাজগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। আর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় প্রায় ৬৭ মিলিমিটার। এতে আমচাষিদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শঙ্কা কেটে গেছে। বরং ফণীর প্রভাবে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা এ অঞ্চলের আমের জন্য দারুণ আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকার আমচাষি সাইদুর রহমান বলেন, ‘ফণী ঝড় নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমের ভরা মৌসুমে ঝড় হলে ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ঝড় না এলেও যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে অনেক উপকার হয়েছে। এই বৃষ্টিতে আম দ্রুত বড় হবে এবং তাড়াতাড়ি বাগান থেকে নামানো যাবে। বাজারে ভালো দামে বিক্রিও হবে।’ রাজশাহীর বাঘা, চারঘাটের বেশ কয়েকজন আমচাষিও বৃষ্টিতে খুশি বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, ঝড়ের প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা খুব দরকার ছিল। হাই কোর্টের নির্দেশে বাগানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ টহল করায় তারা স্প্রে করতে পারছিলেন না। তবে বৃষ্টির কারণে এখন আর স্প্রে করারও প্রয়োজন পড়বে না। ভোলাহাট উপজেলার আমচাষি আবদুস সাত্তার জানান, মুকুল আসার পর থেকে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। পাম্পের মাধ্যমে বাগানে পানি দিতে হয়েছে। সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পানি না পাওয়ায় আম বড় হচ্ছিল না। ফলে সময়মতো আম নামানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ফণীর বৃষ্টি সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফণীর প্রভাবে শুধু বৃষ্টি হওয়ায় এটি আমের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমে রোগবালাই দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টি হওয়ায় এখন আম দ্রুত বড় হবে এবং ঝরে পড়বে না।’ রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, ‘ফণীর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমের বাড়-বাড়ন্ত বেশি হবে। বাগানের যে আমগুলো এক মাস পরে বাজারজাত করা যেত, তা এখন অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আগে নামানো যাবে। এতে আমচাষিরা একদিকে ভালো দাম পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তারা বাজারে পুষ্ট ও সুস্বাদু আম পাবেন।


আপনার মন্তব্য