শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০১৯ ২৩:৩৫

অবৈধ সম্পদের পাহাড় খোকন রাজাকারের দুই ভাগিনাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধ সম্পদের পাহাড় খোকন রাজাকারের দুই ভাগিনাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন ফরিদপুরের সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। একসময় যাদের ব্যাংক হিসেবে লাখ টাকাও ছিল না, তারা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। ফরিদপুর শহর, শহরতলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন কয়েক শ একর ভূসম্পত্তি। ঢাকা-ফরিদপুর রুটে নামিয়েছেন ৬০টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন একেবারেই কপর্দকহীন পরিবারের সন্তান আলোচিত এ দুই ভাই। রাতারাতি তাদের সম্পদের এ উল্লম্ফনে বিস্ময় ছড়িয়েছে ফরিদপুরের সকল শ্রেণির মানুষের চোখে।

বরকত ও রুবেলের বিপুল সম্পদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১ মে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক চিঠিতে দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০ মে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা চিঠি দিয়ে বরকত ও রুবেলকে দুদকে তলব করেন। ২২ মে তারা ফরিদপুর দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। পরে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় চেয়ে নেন।

দুদকে জমা পড়া নথিসূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় নয় বছর ধরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ফরিদপুর অঞ্চলের সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বরকত ও রুবেল। ফরিদপুর অঞ্চলে কোনো টেন্ডার কাজের শিডিউল সংশ্লিষ্ট দফতরে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় সাজ্জাদ-ইমতিয়াজের ব্যক্তিগত অফিসে। সেখানেই টেন্ডার শিডিউল বিক্রি হয়। কতটা শিডিউল বিক্রি হলো, তার কোনো হদিস থাকে না। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। অভিযোগ আছে, টেন্ডার যিনিই পান বা যার লাইসেন্সের অনুকূলেই বরাদ্দ হোক, কাজের মোট মূল্যের ১৭ থেকে ২০ শতাংশ অগ্রিম টাকা সাজ্জাদ-ইমতিয়াজের পকেটে না ঢোকা পর্যন্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয় না।

মাদক বিক্রিসহ পরিবহন খাত থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে বরকত-রুবেলের বিরুদ্ধে। দুদকে জমা পড়া নথির সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী, জনতা ব্যাংকের মোড়, মুন্সীর বাজার বাইপাস, মচ্চর ইউনিয়ন, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় কয়েক শ একর জমি কিনেছেন দুই ভাই। ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল চরের জমি দখল করে নারকেলবাগান, কলাবাগান, গবাদিপশুর খামার তৈরি করেছেন তারা। এ ছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বরকত ও রুবেল।

অভিযোগ আছে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ফরিদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান চৌধুরীকে রীতিমতো জিম্মি করে শহরের শত কোটি টাকা মূল্যের জমি লিখে নিয়েছেন বরকত ও রুবেল। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি খোকন রাজাকারের আপন ভাগিনা এ দুই ভাই। তারাই খোকন রাজাকারকে সুইডেনে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন বলে তথ্য আছে। খোকনের ছেলেও সুইডেনে থাকেন। বরকত ও রুবেলের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। সুইডেনে অর্থ পাচারের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। জানতে চাইলে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘অনুসন্ধান চলছে। অগ্রগতি নিয়ে এখনো কিছু বলার সময় হয়নি।’


আপনার মন্তব্য