শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৪

মোটাতাজা গরুতে আগ্রহ কম ক্রেতাদের

শামীম আহমেদ

কদিন বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ভালো দাম পেতে কোরবানির পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা। গরু-মহিষকে আরও আকর্ষণীয়, স্বাস্থ্যবান ও চকচকে করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু, বিগত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে ক্রেতাদের মধ্যে মোটাতাজা গরু নিয়ে দেখা গেছে অনাগ্রহ। অধিক মোটাতাজা গরু কিনে প্রতারিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অধিকাংশেরই পছন্দ এখন মাঝারি আকারের চঞ্চল গরু। রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ ধারণা পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে এবার দেশি গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানোর পরও ৭ লাখের মতো পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ৫৫ হাজারের বেশি খামারে কোরবানি উপযোগী হৃষ্টপুষ্ট গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৪২ হাজার। ভেড়া ও ছাগল রয়েছে ৭২ লাখ এবং অন্যান্য পশু ছয় হাজার ৫৬৩টি। সব মিলিয়ে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি। পক্ষান্তরে চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি ১১ লাখ। ফলে ভারত থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে দেশি কৃত্রিমভাবে বলবর্ধক ওষুধের মাধ্যমে মোটাতাজা করা গরু নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবারের কোরবানির পশুর হাটে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, কোরবানি নিয়ে উচ্চবিত্তরা এখনই কিছু ভাবছেন না। তবে মধ্যবিত্তরা এরই মধ্যে কোন পশু কোরবানি দেবেন, কত টাকার মধ্যে তা কিনবেন, একা নাকি ভাগে কোরবানি দেবেন- এসব নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছেন। রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, ওষুধ ব্যবহার করে রাতারাতি মোটাতাজা করায় অনেক সময় বাড়িতে নিতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে পশুটি, কখনো কোরবানির আগেই মারা যায়। বেশি দিন আগে কিনে রাখা যায় না। দেখে যতটা মাংস হবে মনে হয়, বাস্তবে ততটা হয় না। তাই তিনি গত দুই বছর ধরে অনেক বড় ও স্বাস্থ্যবান গরু কিনছেন না। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রাণিস্বাস্থ্য ও প্রশাসন) ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, হরমোন ও স্টেরয়েড ব্যবহার করে রাতারাতি গরু-মহিষ মোটাতাজা করা এখন কমে গেছে। কারণ এতে পশুর শরীরে পানি জমে। ৯০ ভাগ পশু কয়েক দিনের মধ্যে মারা যাওয়ার শঙ্কা থাকে। বিক্রি না হলে ওই খামারিই বিপদে পড়েন। গত বছর রাজধানীতে শুধু গাবতলীর হাটে এমন কিছু গরু পাওয়া গিয়েছিল। তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এবারও পশুর হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। তিনি বলেন, সারা দেশের ৫৫ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র খামারের ৪৫ লাখ ৪২ হাজার গরু-মহিষ সারা বছর তাদের মাঠ কর্মকর্তাদের নজরদারিতে ছিল। স্বীকৃত পদ্ধতিতে এসব খামারে পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। কৃমিনাশক ওষুধ ও কয়েকটি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। কাঁচা ঘাস ও ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউরিয়া, চিটাগুড় ও খড়) খাইয়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এটা স্বীকৃত পদ্ধতি। এ ছাড়া পাবনা ব্রিড, চট্টগ্রাম ব্রিডসহ কয়েকটি দেশি উন্নত জাত কৃষকরা লালন করছেন। এ গরুগুলো আকারে বড় ও হৃষ্টপুষ্ট। এসব পশু রোগমুক্ত। তিনি বলেন, ক্রেতা একটু সচেতন হলেই সুস্থ পশু চিনতে পারবে। সুস্থ পশু দাঁড়ানো অবস্থায় লেজ নাড়তে থাকবে, সারাক্ষণ জাবর কাটবে। হঠাৎ শরীরে পানি জমলে পশুর শ্বাসকষ্ট হবে, হাঁটতে কষ্ট হবে, চঞ্চলতা থাকবে না। এদিকে গত বছর চাহিদার তুলনায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৩টি গবাদিপশু বেশি থাকার পরও কোরবানির হাটগুলোতে আসে অনেক ভারতীয় গরু। বিক্রি না হওয়ায় ৫ লাখের মতো দেশি গরু ফেরত যায় ঢাকা থেকে। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি গরুর মাংস ভারতীয় গরুর চেয়ে উৎকৃষ্ট। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে দেশি হৃষ্টপুষ্ট গরু নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর