Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪২

রোড নেটওয়ার্ক ঠিক করতে হবে

-অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান

রোড নেটওয়ার্ক ঠিক করতে হবে

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, দুর্ঘটনা কমাতে সবার আগে রোড নেটওয়ার্ক ঠিক করতে হবে। এরপর আসবে আইন প্রয়োগের বিষয়। আমরা উন্নত  দেশের স্বপ্ন দেখলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সেভাবে উন্নত হয়নি। যেভাবে গাড়ি বেড়েছে সেভাবে সড়ক বাড়েনি। সড়ক ব্যবস্থা উন্নতও হয়নি। যানজট, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অনেক জায়গায় এক কিলোমিটার যেতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে ফাঁকা পেলেই সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চালকরা গতি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে। গতকাল তিনি মুঠোফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ কথা বলেন।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনেক। মহাসড়কে একই সঙ্গে চলছে বিভিন্ন গতির যানবাহন। বাস, অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার, ভ্যান, সাইকেল- সব একসঙ্গে চলছে। এ কারণে সারা বছরই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। ঈদে এটা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ঈদে অল্প সময়ে ঢাকা থেকে অনেক মানুষ বাইরে যাচ্ছে। অন্য সময় দিনে ৮-১০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়লেও ঈদে সেটা ২০-২৫ লাখ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ফিটনেসবিহীন গাড়ি রং করে সড়কে নামছে। আবার এসব গাড়ি চালানোর জন্য দক্ষ চালকও নেই। তাই লং রুটে চালানোর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও মালিকরা অনেকের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। এ সময় টিকিটের ভাড়াও বেড়ে যায়। ফলে মুনাফা বেশি। তাই বেশি ট্রিপ দেওয়ার প্রতিযোগিতা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালান চালকরা। এসব কারণে ঈদে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। তবে ঈদের আগের চেয়ে পরে দুর্ঘটনা বেশি হয়। কারণ ঈদের আগে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকে। ঈদের পরে সেটা কমে যায়। সেই সঙ্গে ঈদের আগে একসঙ্গে অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি থাকে। গতি কমে যায়। ঈদের পরে অনেক দিন ধরে মানুষ ঢাকায় ফেরে। তাই রাস্তাও ফাঁকা থাকে। ফাঁকা রাস্তায় চালকরা গতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটেছে।

তিনি বলেন, মালিকদের খেয়াল রাখতে হবে চালকরা যেন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি না করে। কিন্তু আমাদের দক্ষ চালকের সংকট আছে। ঈদে গাড়ি ও ট্রিপ বাড়ায় সংকট আরও বেড়ে যায়। তাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চালক বাড়াতে হবে। সবার আগে রোড নেটওয়ার্ক ঠিক করতে হবে। এরপর অন্য বিষয়। গতি নিয়ন্ত্রণ, গাড়ির ফিটনেস দেখা, অদক্ষ চালকের হাতে যাতে গাড়ির স্টিয়ারিং না যায় সেটা দেখার দায়িত্ব বিআরটিএ ও পুলিশের। সে দায়িত্বে তাদের সৎ হতে হবে। একই সঙ্গে ঈদের সময় বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে শহরের বিআরটিসি বাসগুলোকে লং রুটে দেওয়া যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর