Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৪

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার সমাধান কী

আন্দোলনে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বিঘ্নিত লেখাপড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

আন্দোলনে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বিঘ্নিত লেখাপড়া

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের মোট পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে উত্তাল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলমান  থাকলেও মেলেনি সমাধান। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, দিনভর উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিবাদী কনসার্ট। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে র চার্জশিট প্রস্তুত হয়েছে বলে জানা গেছে। এক মাসেরও কম সময়ে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করেছে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এখনো থমকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। চলমান সিমেস্টারের ক্লাস শেষে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা থেকে বিরত রয়েছেন। আবরার হত্যাকান্ডে র পর ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সব দাবি মেনে নেয়। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন তিনটি দাবিকে সামনে রেখে পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছেন, আবরার হত্যাকান্ডে র সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা, সম্প্রতি দুটি হলে সংঘটিত র‌্যাগের ঘটনায় জড়িতদের প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি নিশ্চিত ও বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান প্রণয়ন। এসব দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাসিত জানান, আবরারের হত্যাকারীদের স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টির প্রক্রিয়া চলমান আছে। দুটি হলের র‌্যাগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা আগামী সপ্তাহে রিপোর্ট দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান করা সময়সাপেক্ষ বিষয়, এর জন্য সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত লাগবে। সবমিলিয়ে আমরা আশা করছি এ মাসের শেষের দিকে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্লাস পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ক্যাম্পাসে কোনো আন্দোলন কর্মসূচি ছিল না। দুই হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে কুয়েট। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষার্থীরা। প্রথম বর্ষে ভর্তিইচ্ছু শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ, বিতর্কিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত না রাখার দাবিতে আন্দোলন করছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য