শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫

কৃষি

বেনাপোলের গাছিরা আগাম খেজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত

বকুল মাহবুব, বেনাপোল

বেনাপোলের গাছিরা আগাম খেজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত

‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’- এই প্রবাদকে সত্য করে তুলতে আর কয়েক দিনের মধ্যে বেনাপোল, শার্শাসহ যশোর জেলাজুড়ে প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে খেজুরের গুড়-পাটালি তৈরির মহা উৎসব। বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা পায়েসসহ নাম না জানা হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়ে যাবে। তাই শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে খেজুর গাছ খিলি দিতে শুরু করেছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের সোনালি অংশ বের করে থাকে, যাকে বলে চাঁচ দেওয়া। চাঁচ দেওয়ার সপ্তাহখানেক পর নোলন স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে সুস্বাদু খেজুর রস আহরণের কাজ। প্রভাতের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘন কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এই মৌসুমে খেজুরের রস দিয়ে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বাড়বে খেজুরের রসের মিষ্টি তত বাড়বে। গ্রামীণ জনপদে শীতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দিনের শুরুতে শীতের সকালে খেজুরের রস, সন্ধ্যা রস ও সুস্বাদু গুড়-পাটালি। সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরিতে আবহমান কাল থেকে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে খেজুরের গুড় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শার্শা উপজেলার গোগা কালিয়ানী গ্রামের গাছি জসিম উদ্দীন  জানান, যশোরের এই খেজুরের রস ও পাটালি গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক। গুড়-পাটালির দাম বেশি পাওয়ার জন্য সে জন্য এ অঞ্চলের গাছিরা শীত মৌসুম আসার আগেই খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য আগাম গাছকে প্রস্তুত করে রাখে। আগাম গাছ তোলায় রস ও গুড়ের দাম বেশি পাওয়া যায়। এক একটি খেজুর গাছ রস আহরণের জন্য প্রস্তুত করতে গাছিকে খরচ করতে হয় প্রায় ১০০ টাকা। এ মৌসুমে আমি প্রায় ৩০০ খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করব। রস, গুড়-পাটালি বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে। শার্শা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, এ বছর সঠিক সময়ে শীতের আগমন হওয়াতে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খেজুরের রস আহরণের জন্য গাছিরা আগাম খেজুর গাছগুলো প্রস্তুত করে রেখেছে। এখান থেকে গাছিরা রস আহরণ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। শার্শা উপজেলাতে প্রায় লক্ষাধিক রস প্রদানকারী খেজুর গাছ রয়েছে। সেখান থেকে গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরি করে নিকটস্থ বাজারে বিক্রয় করে  আর্থিকভাবে লাভবান হয়।


আপনার মন্তব্য