শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৪

নিঃস্ব হয়ে সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ২২৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ফেরত পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার একদিনেই দেশটি থেকে ফিরতে হয়েছে ২২৪ জন  বাংলাদেশিকে। অনেককে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আটক করে এক কাপড়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কাপড়ে রয়ে গেছে ময়লা ও রঙের দাগ। দেশে ফিরে স্বজনের দেখা পাওয়ার আশায় যে মানুষগুলোর চোখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠার কথা, তাদের চোখে-মুখে বিষাদ আর অনিশ্চয়তার ছাপ। অধিকাংশই ফিরেছেন শূন্যহাতে। শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে দেশে ফেরেন ১০৮ জন। এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৮ বিমানযোগে ফেরেন আরও ১১৬ জন। এ নিয়ে নতুন বছরের ১৮ দিনে ১ হাজার ৮৩৪ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফিরলেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি থেকে ফেরত আসাদের জরুরি সহায়তা ও কাউন্সিলিং দেওয়া হয়। ফিরে আসা বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার শামীম (৩০) জানান, মাত্র তিন মাস আগে তিন লাখ টাকা খরচ করে ড্রাইভিং ভিসায় তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দুই মাস কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি। পরে মালিককে (কফিল) বারবার অনুরোধ করলে তিনি অন্য জায়গায় কাজের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু সেখানে কর্মরত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তিনি মালিককে ফোন দিলেও তিনি দায়িত্ব নেননি। নরসিংদীর মো. মিন্টু মিয়া বলেন, ৪ লাখ টাকা খরচ করে পাঁচ মাস আগে ক্লিনারের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরব। কাজ শেষে রুমে ফেরার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। আকামা দেখানোর পরও তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অনেককেই ফিরতে হয়েছে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬ হাজার ১১৭ জন, ওমান থেকে ৭ হাজার ৩৬৬ জন, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫ জন, কাতার থেকে দুই হাজার ১২ জন, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ জন ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন শূন্যহাতে ফিরেছেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, নতুন বছরের শুরুর ১৮ দিনেই এক হাজার ৮৩৪ জন বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরেছেন। ফেরত আসা কর্মীরা বরাবরের মতো অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্যহাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।


আপনার মন্তব্য