শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৪

বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে মারধর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে মারধর

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এক কিশোরকে মারধর ও ঝাড়ু-জুতার মালা গলায় পরিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত দোকান কর্মচারী নীরব হোসেন (১৬)-কে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জালালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায়। এ ঘটনায় গতকাল ভুক্তভোগীর নানী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে ঝাড়ু ও জুতার মালা গলায় পরিয়ে কিশোরকে এলাকায় ঘুরানোর ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœসহ এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। গত শনিবার বিকালে কর্মরত দোকান থেকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় নীরবকে। শুধু তাই নয়, তার গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন করা হয়। এখানেই শেষ নয়, নির্যাতনের পর তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে এনে দোকান (চামড়ার দোকান) মালিক শালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মাতব্বররা ওই কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে তার (কিশোরের) জরিমানা করেন ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এতিম ওই কিশোরের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি নানা ও নানী। এতেই হট্টগোল শুরু হয়ে আবারো মারধর করা হয় তাকে। রবিবার রাত ৯টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ভুক্তভোগী কিশোরকে। ভিকটিমের শ্রমের টাকা না দিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। জানা যায়, ছয় মাস ধরে স্থানীয় রাশেদের চামড়ার দোকানে কাজ করতেন মৃত কিরণ হোসেনের ছেলে নীরব হোসেন। এরই মধ্যে তার মাকেও হারান সে। দোকানে মাসিক শ্রমের টাকা পায় না বলে অভিযোগ তার। তবে দোকান মালিক বলছেন চুরি করে তার মূলধন আত্মসাৎ করায় নিজেসহ এলাকাবাসী তাকে শাস্তি হিসেবে ঝাড়ুু ও জুতার মালা পরিয়ে দেন। পরে শালিসি বৈঠকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাতব্বররা তার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে কাউন্সিলর শিপন ও শালিসদার ইসমাইল ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বলে দায় এড়াতে চান। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন জানান, নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর