শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪২

চার খাতেই ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা

করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বৈঠক

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা খতিয়ে দেখতে আজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৈঠকের জন্য তৈরি করা ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, চীনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাধার মুখে পড়ায় চার খাতেই আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ট্যারিফ কমিশনের এ প্রতিবেদনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে তৈরি পোশাক খাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি ট্যারিফ কমিশন। বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকের ওভেন খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ ফেব্রিক্স আসে চীন থেকে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। আরেক খাত নিটশিল্প নিয়ে বলা হয়েছে, এ খাতের ১৫-২০ শতাংশ কাঁচামাল চীন থেকে আসে। এ ছাড়া নিট ও ডায়িংয়ের কেমিক্যাল এবং এক্সেসরিজের ৮০-৮৫ শতাংশ আমদানি হয়। বর্তমানে চীন থেকে সরবরাহ-ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতে করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ থেকে রিপোর্ট নিয়েছি। তারাও জানাতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে কাঁচামাল আমদানিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা জানতে আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর থেকে আমদানি-রপ্তানির তথ্য সংগ্রহ করছি। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির এলসির তথ্য পাওয়া যাবে এপ্রিলে।’ তবে গার্মেন্ট শিল্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না বলে মনে করছেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে চীন থেকে তারা পণ্যের কাঁচামাল আমদানি শুরু করেছেন।’

ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপনকান্তি ঘোষ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তবে গার্মেন্ট শিল্পে খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কারণ, ভাইরাসটি এমন একটি সময়ে ছড়িয়েছে যখন এমনিতেই নববর্ষের ছুটির কারণে চীনে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকে। ওই নববর্ষের ছুটি ধরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত কাঁচামাল আমদানি করে রেখেছিলেন। এখন তা দিয়েই চলছেন।’ তবে করোনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য তৈরি করা প্রতিবেদনে মোট ১৫টি খাতের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করেছে ট্যারিফ কমিশন। এর মধ্যে ফিনিশড লেদার ও লেদারগুডস শিল্পে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে চীনে এ খাতের রপ্তানির পরিমাণ দেশটিতে মোট রপ্তানির ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। ফলে করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চামড়া রপ্তানি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে। এ খাতে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। কর্মকর্তারা জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার কাঁচামাল দরকার, যার ৪০ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে করোনাভাইরাসের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি বিঘিœত হলে গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি (লাইভ অ্যান্ড চিল্ড ফুড) খাতে। দেশে মজুদকৃত পণ্য রপ্তানি করতে না পারলে এ খাতে ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে ট্যারিফ কমিশন। কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি হয় দেশটিতে। স্থানীয় বাজারে চাহিদাশূন্য এ পণ্যটির রপ্তানি বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে ২০০ কোটি টাকার জীবন্ত কাঁকড়া ও কুঁচে মারা গেছে। মুদ্রণশিল্পেও করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি বলছে, চীন থেকে বার্ষিক ১৮০ কোটি ডলারের মুদ্রণশিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয় বাংলাদেশে। বর্তমানে জাহাজিকরণ বন্ধ থাকায় এ খাতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্লাস্টিক, কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ, ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজ ম্যানুফ্যাকচারার্স, জুট স্পিনার্স, মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স, চশমা, কম্পিউটার অ্যান্ড কম্পিউটার এক্সেসরিজ, ইলেকট্রনিক ও ভোগ্যপণ্য প্রভৃতি খাতের আর্থিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ কমিশনে চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর