শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২০ ২৩:৩৭

ফুলপুরে আরবের খেজুর গাছের চাষ

এম এ মান্নান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)

ফুলপুরে আরবের খেজুর গাছের চাষ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাণিজ্যিকভাবে সৌদি আরবের খেজুর চাষ শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে ৮টি চারা দিয়ে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুরান ডাকবাংলা রোডে খরিয়া নদীর পাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে প্রথম সৌদি খেজুর চাষ শুরু করেন সাহাপুর গ্রামের কৃষক ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৩৭)। বাগানের উন্নতি দেখে নিজ গ্রামে আরও ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি আরেকটি খেজুর বাগান করেন। এখন তার দুটি বাগানে আজুয়া, শুক্কারি ও বকরিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় তিন হাজার খেজুর চারা রয়েছে। প্রথম যে চারাগুলো রোপণ করা হয়েছিল সেগুলোতে ফলন এসেছে। আশা করা হচ্ছে, কুরবানির ঈদের আগেই বাণিজ্যিকভাবে বাজারে যাবে কাশেমের বাগানের খেজুর। কাশেম ভালুকার খেজুরচাষি মোতালেবের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করেন এ বাগান। পরে খেজুর চাষ বিষয়ে অভিজ্ঞ জ্ঞানেন্দ্র বাবু নামে এক ব্যক্তির শরণাপণœ হন। তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বাগানের পরিধি ও আয়তন আরও বৃদ্ধি করেন।

কাশেম তার ছেলের নামে বাগানের নাম দিয়েছেন ‘আবদুলাহ আন-নূর সৌদি খেজুর বাগান’। তার বাগানের খেজুর গাছগুলো কলাগাছের মতো একেকটা ২০ থেকে ২৫টা করে চারা দেয়। পুরান ডাকবাংলা রোডে ঢুকলে চোখে পড়ে সেই সুন্দর বাগান। বৃহস্পতিবার বাগানটিতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট খেজুর গাছে মোচা বের হচ্ছে। একই গাছের গোড়ায় নতুন চারা জন্ম নিয়েছে। সেগুলো কলম কেটে আলাদা করা যায়। দর্শনার্থীরা দেখতে আসছেন কাশেমের খেজুর বাগান। শেরপুর রোড মোড়ে কাশেমের একটি ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। দোকানে সময় দেওয়ার ফাঁকে কর্মচারীদের সঙ্গে নিজেও খেজুর বাগানের পরিচর্যা করেন তিনি। খরিয়া নদীর পাড়ে চমৎকার পরিবেশে গড়ে উঠেছে খেজুর বাগানটি। গিয়ে দেখা যায়, কাশেম নিজেই বাগানে পানি দিচ্ছেন, আগাছা পরিষ্কার করছেন। তিনি জানান, বর্তমানে তার বাগানের চারা বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যায়ে পৌঁছাতে আমার প্রায় আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ আমদানি, শ্রমিক খাটানো, সার, গোবর ও খাবার সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে এ খরচ হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই লাভের মুখ দেখতে পাব। তিনি জানান, তার বাগানে ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামের তিন হাজার চারা রয়েছে। সঠিক দামে বিক্রি করতে পারলে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাগানে দুজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি এর পরিধি বড় করব এবং তাতে আরও অনেকের কর্মসংস্থান হবে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুলাহ আল মামুন বলেন, সৌদি খেজুর উৎপাদনে বাংলাদেশের মাটি খুবই উপযুক্ত। ইতিমধ্যে সিড স্টোর, নরসিংদী, নুহাশপল্লী সংলগ্ন আলিমপুর, ভালুকা, গাজীপুরের পাশাপাশি ফুলপুরেও এর চাষ শুরু হয়েছে। এটি লাভজনক উচ্চমূল্যের একটি ফসল। চাষে সফলতা পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক উন্নতিসহ পুষ্টি ও খাদ্যঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। ফুলপুরে গড়ে ওঠা সৌদি খেজুর বাগানে এখনো যাওয়া হয়নি, তবে শিগগিরই যাব এবং লাগলে তাদের প্রয়োজনীয় কৃষিসেবা দেওয়া হবে।


আপনার মন্তব্য