শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মে, ২০২০ ০০:১১

প্রকৃতি

বিষধর সাপ খইয়া গোখরা

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

বিষধর সাপ খইয়া গোখরা

তীব্র বিষধর সাপ খইয়া গোখরা। ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান কোবরা। অন্য নাম স্পেকটাকল্ড কোবরা। আর বৈজ্ঞানিক নাম নাজা নাজা। আমাদের দেশে কোথাও কোথাও এরা কেউটে নামেও পরিচিত। এরা বিষধর এলাপিডি পরিবারের মধ্যে একটি বড় সর্পগোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছরপুর থেকে এ বিষধর সাপটি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আনা হয়। বিশারদরা জানান, এরা ভারতের অন্যতম বিষধর সাপ। পদ্মগোখরা এদের নিকটাত্মীয়। খইয়া গোখরার ফণার পেছনে গরুর খুরের মতো দাগ থাকে। ফণার পেছনে গোল দাগ রয়েছে। উত্তেজিত হলে এদের ঘাড়ের লম্বা হাড় স্ফীত হয়ে ওঠে। তখন এদের ফণাটি চমৎকার বিস্তৃতি লাভ করে। এদের গায়ের রং হলুদ বাদামি। শরীরে ছাই বা কালো রঙের ক্রসব্যান্ড রয়েছে। ফণার দুই ধারে নিচের দিকে কালো ছোপ রয়েছে। একটি বা দুটি ক্রস আকারের রেখা কালো ছোপের পেছন থেকে পেটের দিকে নেমে এসেছে। এদের দুটি সরু লম্বা বিষ দাঁত আছে। এরা প্রায় ২.৩ মি (৭.৫ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম থেকে চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস, নেপাল ও থাইল্যান্ডে এদের  দেখা মেলে। এরা নিশাচর। মানুষের বসতবাড়ির আশপাশ, চাষের জমি, বনাঞ্চল বা ধান খেতের আশপাশের ইঁদুরের গর্তে থাকতে এরা ভালোবাসে। এরা উভচর প্রাণী আর স্তন্যপায়ী প্রাণী, সাপ বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। আত্মরক্ষার্থে এরা ফণা তুলে জোরে হিস হিস শব্দ করে। তখন কামড়ও দিতে পারে। মে-জুন তাদের প্রজনন সময়। এরা ২৫ থেকে ৩০টি ডিম দেয়। ডিমে তা দেয় না। কিন্তু ডিমের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। ডিম ফুটে ছানা বের হতে লাগে ৬০ দিন। ডিম আপনাআপনি ফেটে যায়। দেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ সাপটি সংরক্ষিত। বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, উদ্ধার করা সাপটি লাউয়াছড়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে। বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ বলেন, খইয়া গোখরা বিষধর হলেও আমাদের জন্য এরা খুব উপকারী। কারণ এরা ইঁদুর খেয়ে ইঁদুরের গর্তে বাসা বানায়। এতে আমাদের দেশের কৃষকের অনেক উপকার হয়। খইয়া গোখরা দেশের শস্যভান্ডার পূর্ণ করতে সাহায্য করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর